Breaking
ইরানের অধিকার নিশ্চিত না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে -সেনা প্রধান জেনারেল আমির হাতামি।

ইরানের অধিকার নিশ্চিত না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে -সেনা প্রধান জেনারেল আমির হাতামি।

Share:

Written By

News Desk

ইরানের অধিকার নিশ্চিত না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে -সেনা প্রধান জেনারেল আমির হাতামি।

তেহরান, ইরান | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইরানের জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারকে সম্মান করা না হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তাঁর দাবি, প্রণালিটি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ তদারকিতে রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে তেহরানের ইমাম আলী (আ.) অফিসার্স একাডেমির মসজিদে আয়োজিত ১১তম জাতীয় ইতেকাফ কংগ্রেস এবং অষ্টম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও শৈল্পিক ইতেকাফ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হাতামি বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করতে ব্যর্থ হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। তাঁর এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তেহরানের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

ইরানের শক্তির চারটি প্রধান স্তম্ভ

ইরানের শক্তির চারটি প্রধান ভিত্তি হিসেবে জনগণ, সশস্ত্র বাহিনী, রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা এবং দেশটির ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন হাতামি। তাঁর দাবি, এই চারটি উপাদান সম্মিলিতভাবে শত্রুপক্ষের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ব্যর্থ করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর ইরানের জনগণের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিরোধে অংশ নিয়েছে। ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনিও জনগণের এই ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় ঐক্য, সামরিক সক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তদারকি

ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাংশ তদারকি করছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌবাহিনী। অন্যদিকে, প্রণালির পূর্বাংশ এবং ওমান সাগরের দায়িত্বে রয়েছে ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী।

প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত—এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে হাতামি বলেন, সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে একাধিকবার গুলি চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া শত্রুপক্ষের কোনো জাহাজ ইরানের সামুদ্রিক এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি।

তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সামরিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এসব বক্তব্য ইরানি সেনাপ্রধানের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখানে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য উপস্থাপিত হয়নি।

যুদ্ধের শুরুতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে দেশটির শক্তির দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বর্ণনা করেন হাতামি। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের অবস্থান লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

তিনি আরও দাবি করেন, বহু সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তার মৃত্যুর পরও ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) অভিযান অব্যাহত ছিল। এসব প্রাণহানি সামরিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাতামির বক্তব্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও জনগণের অংশগ্রহণকে দেশটির প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজের গুরুত্ব

পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বিধিনিষেধ বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ আরোপ করে। ইরান জানিয়েছে, তাদের কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে সমন্বিতভাবে চলাচল করতে পারবে এমন জাহাজগুলোর জন্য পথ খোলা থাকতে পারে; তবে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে।

এই অবস্থানের বাস্তব প্রয়োগ এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা নির্ধারণে স্বাধীন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের অধিকার নিয়ে আবারও কঠোর বার্তা

হাতামি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের জনগণের অধিকারকে সম্মান করা না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তেহরান দেশটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছে।

সব মিলিয়ে, ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের অধিকারকে সম্মান করা না হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA)।

দ্য গ্লোবাল জার্নাল