একমাস পরেই আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। ৬৫% আমেরিকানের অসন্তুষ্টিতে কঠিন সময় পার করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প -AP/NORC জরিপ
ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র | ২ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি মার্কিন জনগণের অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে সর্বশেষ AP-NORC জরিপে।
জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দামের জন্য ট্রাম্পের নীতির ভূমিকা রয়েছে। একই সময়ে মাত্র ২৬ শতাংশ ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার পদ্ধতিতে অনুমোদন জানিয়েছেন, আর ৭৩ শতাংশ এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও জনমত নেতিবাচক। মাত্র ১৭ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডে অনুমোদন দিয়েছেন, যেখানে ৬৯ শতাংশ বলেছেন, এই বিষয়ে ট্রাম্পের কার্যক্রম তাদের প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হয়েছে।
তবে উচ্চমূল্যের কারণ নিয়ে দলীয় বিভাজনও স্পষ্ট। জরিপে ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণ এমন কিছু বিষয়, যা প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে ৬৫ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক উচ্চমূল্যের সঙ্গে ট্রাম্পের নীতির সম্পর্ক দেখেছেন।
অর্থনীতি নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। AP-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া কিছু ট্রাম্প সমর্থকও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ভোটারদের বক্তব্যে জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পারিবারিক বাজেটে চাপের কথা উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও অসন্তোষ
AP-NORC-এর তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কিছু রিপাবলিকান ভোটারও মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে বহু রিপাবলিকান মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণগুলোকে দায়ী করছেন।
৬৬ বছর বয়সী রিপাবলিকান রবার্ট গল্ট The Associated Press-কে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে ৫২ বছর বয়সী ট্রাম্প সমর্থক পেদ্রো সানচেজও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্য তার হাতে ব্যয়ের জন্য থাকা অর্থ কমিয়ে দিয়েছে।
ইরান নীতি নিয়েও জনমতে অসন্তোষ রয়েছে। সর্বশেষ AP-NORC জরিপে ৭১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। একই সঙ্গে ৬৯ শতাংশ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করা সার্থক হয়নি।
AP-NORC জরিপটি ২০২৬ সালের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২,১৪০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। জরিপটির সামগ্রিক নমুনা-ত্রুটির সীমা ±২ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের একাংশের আসন এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে।
অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো বিষয়গুলো নির্বাচনের আগে মার্কিন জনআলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ জরিপের ফল সেই জনমতের একটি চিত্র তুলে ধরছে।





