অতঃপর নেতানিয়াহুর অধ্যায়ের সমাপ্তি,ইসরায়লের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন সাবেক সেনাপ্রধান ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোট
জেরুজালেম, ইসরায়েল | ৫ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইসরায়েলের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশটির পরবর্তী সরকারপ্রধান হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে আরব জয়েন্ট লিস্ট জোট। এর ফলে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকোট।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আরব জয়েন্ট লিস্ট জোট জানিয়েছে, সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের সময় তারা আইজেনকোটের পক্ষে সুপারিশ করবে। তিনি বর্তমানে ইয়াশার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরব জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন যুক্ত হলে ১২০ আসনের নেসেটে আইজেনকোটের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের সমর্থন বেড়ে ৬৭ জনে দাঁড়াতে পারে। যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ছয়টি বেশি।
জয়েন্ট লিস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আমরা গাদি আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ জোটের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে জোটটি স্পষ্ট করেছে, সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির এখনো নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পথ ও নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে উসকানি মোকাবিলা এবং তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বৈধতা রক্ষায় পর্যাপ্ত সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে পারেনি।

নেসেটের আসন বিন্যাসে ক্ষমতার লড়াই
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন শেষে ১২০ আসনের নেসেটে আসন বিন্যাস দাঁড়িয়েছে—
- নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট: ৫৩ আসন।
- আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: ৪৮ আসন।
- আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো: ১৯ আসন।
এর আগে আটটি আসনের অধিকারী রা’আম পার্টি আইজেনকোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল। অন্যদিকে, ১১ আসনের জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন যুক্ত হওয়ায় তাঁর পক্ষে মোট সুপারিশের সংখ্যা ৬৭-তে পৌঁছানোর কথা।
সমর্থন পেলেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিশ্চিত নয়
তবে নেসেটের ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আইজেনকোট ইতোমধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক জোট নিশ্চিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আইনপ্রণেতাদের সুপারিশ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতা ও সংসদীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে বিকল্প প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এদিকে, নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা সমন্বয়, নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য জোট চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে বিরোধী দলগুলো।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের সামনে এখন আরব দলগুলোর সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সব মিলিয়ে, জয়েন্ট লিস্টের এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে নতুন সরকার গঠন এবং নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রিত্বের অবসান ঘটবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।









