ইরান যুদ্ধকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ৫ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁকে সমর্থন করা অনেক ভোটার যুদ্ধের প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স স্বীকার করেন, যুদ্ধই তাঁদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের কারণ হলো যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এমনটি বলেছেন।’
ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরের অভ্যন্তরীণ জরিপ ও তথ্য বিশ্লেষণে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে দলের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সাবেক সমর্থকদের একটি অংশের কাছ থেকে, যারা এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছেন।
ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনের চারটি কারণ
ভ্যান্স তাঁর পোস্টে একজন প্রভাবশালী রিপাবলিকান জরিপ বিশ্লেষকের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, সাবেক ট্রাম্প-ভ্যান্স সমর্থকদের আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরিয়ে আনতে চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

1. ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
2. জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেওয়া।
3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা।
4. ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন ও নীতিতে পরিবর্তন আনা।
ভ্যান্সের এই বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার বিষয়টি। এটি রিপাবলিকান পার্টির প্রচলিত পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান নিয়ে দলটির ভেতরে নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুদ্ধের রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে ট্রাম্পকে পরোক্ষ বার্তা
ভ্যান্স তাঁর পোস্টে আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো যদি কারও কাছে গ্রহণযোগ্য মূল্য বলে মনে হয়, তাহলে তাঁর উচিত সেই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা। তাঁর মতে, যুদ্ধের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিণতি নিয়ে দলের নেতাদের সৎভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের প্রকাশ্য মন্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরাজয়ের ক্ষোভকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান
রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে ভ্যান্স বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে ক্ষুব্ধ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই ক্ষোভকে হতাশায় পরিণত না করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সমমনা প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তাঁদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, নির্বাচনের পর ভ্যান্সের এই বক্তব্য শুধু রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ নয়, বরং দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর এই অবস্থান মার্কিন রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
তবে ইরান যুদ্ধই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি দুর্নীতি ভোটারদের কাছে যুদ্ধের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। ফলে নির্বাচনের ফলাফলে অর্থনৈতিক অসন্তোষসহ একাধিক বিষয় ভূমিকা রেখেছে।









