ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন
📍 ব্রাসেলস, বেলজিয়াম | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | The Global Journal
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) চূড়ান্ত করেছে, যা দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। চুক্তির ফলে অধিকাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে বা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এটি এখন পর্যন্ত ভারত ও ইইউর মধ্যে সম্পাদিত সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যমতে, চুক্তি কার্যকর হলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউর রপ্তানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পণ্যমূল্যের হিসাবে প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর শুল্ক হ্রাস বা বিলুপ্ত করা হবে। এর ফলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বছরে আনুমানিক ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় করতে পারবে।
চুক্তির বিনিময়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী সাত বছরের মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৯৯.৫ শতাংশ পণ্যের ওপর শুল্ক ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক পণ্য, চামড়া ও বস্ত্রজাত দ্রব্য, রাসায়নিক পণ্য, রাবার, মৌলিক ধাতু এবং রত্ন ও গয়নাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় রপ্তানি পণ্য।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন চুক্তি সম্পর্কে বলেন,
“আজ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও গভীর হলো। আমরা ২ বিলিয়ন মানুষের একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলেছি, যেখানে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। এটি প্রমাণ করে যে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখনো বড় সাফল্য এনে দিতে সক্ষম।”
এখন চুক্তিটি স্বাক্ষর ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইউরোপীয় কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হবে। কাউন্সিল অনুমোদন দিলে ইইউ ও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে। তবে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চুক্তিটি কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, ভারত ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা প্রায় দুই দশক ধরে চলছিল। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় নতুন গতি এসেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এশিয়া ও অন্যান্য উদীয়মান বাজারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।
চলতি মাসের শুরুতে ইইউ দক্ষিণ আমেরিকার মারকোসুর কাস্টমস ইউনিয়নের চার প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া, গত বছর ইইউ ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিল, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য কৌশলে ইইউর সক্রিয় অবস্থানের প্রমাণ।


