লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় শুরু হলো ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়
তেহরান | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শনিবার রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তাঁর কফিন ঘিরে লাখো শোকাহত মানুষ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শোকের আবহে বহু মানুষ বুক চাপড়ে মাতম করেন এবং পুরো তেহরানজুড়ে শোকধ্বনি ও বিভিন্ন স্লোগান ধ্বনিত হতে থাকে।
ইরান সরকারের দাবি অনুযায়ী, ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের সূচনালগ্নে পরিচালিত এক বিমান হামলায় নিহত হন। কয়েক দশক ধরে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠান দেশের নতুন নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন সুসংহত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনা নিয়ে ভাবছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা হাজারো মানুষকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। অনেকেই প্রতিশোধের দাবিতে স্লোগান দেন। রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনায় আয়াতুল্লাহ খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি এবং শোকের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি শিয়া ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসারে বহু শোকাহত ব্যক্তি বুক চাপড়ে মাতমে অংশ নেন।
শোকাহত নাগরিক মাসুমেহ মোহাম্মদি বলেন, "ইমাম খামেনি ছিলেন আমাদের হৃদয়, আমাদের পিতা, আমাদের সবকিছু। তিনি শহীদ হয়েছেন—এ কথা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।"
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নির্মিত মূল মঞ্চটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে এটি আয়াতুল্লাহ খামেনির দীর্ঘদিনের হুসেইনিয়ার পরিবেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। সেখানে তাঁর ব্যবহৃত চেয়ারের অনুরূপ একটি চেয়ার, একটি মাইক্রোফোন ও একটি টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের ওপরে টাঙানো হয়েছে ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির প্রতিকৃতি।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর, দেহ তল্লাশি এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে শোকাহত মানুষের স্বস্তির জন্য স্বেচ্ছাসেবীরা পানি বিতরণ এবং কুলিং মিস্ট স্প্রে করার ব্যবস্থাও করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিনের ওপর রাখা হয়েছে তাঁর কালো পাগড়ি, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর হওয়ার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিনও তাঁর কফিনের পাশে রাখা হয়েছে।
দিনভর রাজধানী তেহরানে মানুষের ঢল অব্যাহত থাকে। তেহরানের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সমবেত হন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠান তিন দিনের সরকারি জাতীয় শোক ও স্মরণ কর্মসূচির সূচনা। ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় লাখো মানুষ জড়ো হয়ে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতাকে শেষ বিদায় জানান।
— দ্য গ্লোবাল জার্নাল





