Breaking
অতঃপর চড়া মূল্যে ইরানের ১০শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে ২সপ্তাহের জন্য স্বস্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অতঃপর চড়া মূল্যে ইরানের ১০শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে ২সপ্তাহের জন্য স্বস্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

Lead News4/8/2026
Share:

Written By

News Desk

অতঃপর চড়া মূল্যে ইরানের ১০শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে ২সপ্তাহের জন্য স্বস্তিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 

দ্য গ্লোবাল জার্নাল | ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ওয়াশিংটন সময়  7এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই "চূড়ান্ত" শান্তি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুমকি এবং ইরানের কঠিন সব শর্ত। 

হুমকি ও আল্টিমেটাম: নির্ঘুম এক রাত

সংঘাতের শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ তিনি উত্তর আমেরিকার সময় ৭ই এপ্রিল রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেন। আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে... আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তা ঘটবে।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি ধ্বংসলীলার হুমকিতে ইরানিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। হামলার ভয়ে মঙ্গলবার সারা রাত ইরানিরা নির্ঘুম কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।

যুদ্ধবিরতির শর্ত: কার জয়, কার হার?

হোয়াইট হাউজ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার পাশাপাশি ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অধিকাংশ শর্তই মেনে নিয়েছে। ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:

ইরান ও তার মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

ইরানের ওপর থেকে সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা সম্পদ ফেরত।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

ইরানকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ) কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছে। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান মজুত কীভাবে তদারকি করা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

এই যুদ্ধবিরতিকে ইসরায়েল স্বাগত জানিয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইসরায়েল জানায়, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং তাদের সামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের শর্তে তারা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।

তবে নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। "একটি সভ্যতা ধ্বংস" করার মতো উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য ডেমোক্র্যাটরা তার অপসারণ দাবি করেছেন। এমনকি রিপাবলিকান দলের অনেক সিনিয়র নেতাও তার এই ভাষার তীব্র সমালোচনা করেছেন। টেক্সাসের কংগ্রেসম্যান নাথানিয়েল মোরান লিখেছেন, "একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংসের পক্ষে আমরা নই, এটা আমেরিকার নীতি হতে পারে না।"

বাজারের ওপর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে মার্কিন শেয়ারবাজারের সূচকেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে: এই চুক্তি ট্রাম্পকে একটি চরম সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটার সুযোগ করে দিয়েছে। হয় তাকে ধ্বংসলীলা চালাতে হতো, না হয় আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে হতো। আপাতত দুই সপ্তাহের এই সময়সীমা উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ দিলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অনেক দূরে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ওপর তাদের প্রভাব এখনো অটুট।

পরবর্তী দুই সপ্তাহ কেবল ওয়াশিংটন বা তেহরানের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।