Breaking
এবার মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুশিয়ারী দিলেন উত্তর কোরিয়া।

এবার মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুশিয়ারী দিলেন উত্তর কোরিয়া।

Share:

Written By

News Desk

এবার মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর এবং পাল্টা পদক্ষেপের হুশিয়ারী দিলেন উত্তর কোরিয়া। 

পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির অভিযোগ, মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বক্তব্য প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ সালের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করেই পিয়ংইয়ংয়ের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্স, দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ ও আনাদোলু এজেন্সিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মার্কিন প্রতিবেদনকে ‘রাজনৈতিক উসকানি’ বলল পিয়ংইয়ং

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্কিন প্রতিবেদনটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উসকানি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনটিতে মনগড়া অভিযোগ তুলে ধরে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পিয়ংইয়ংয়ের অভিযোগ, ওয়াশিংটন মানবাধিকার ও মানবপাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনীতিকরণ করে অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা তৈরি করছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মুখপাত্র আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত মানবাধিকার প্রচারণা অন্যান্য বৈরী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

টানা ২৪ বছর সর্বনিম্ন স্তরে উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের Trafficking in Persons Report-এ উত্তর কোরিয়াকে সর্বনিম্ন স্তর বা টিয়ার–৩ (Tier 3)-এ রেখেছে। টানা ২৪ বছর ধরে দেশটি এই শ্রেণিতে রয়েছে বলে ইয়োনহাপ জানিয়েছে।

মার্কিন প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বন্দিশিবির, শ্রম প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত অনেক উত্তর কোরীয় শ্রমিক অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ এবং পাসপোর্ট ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত জোরপূর্বক শ্রম থেকে পাওয়া অর্থ দেশটির সরকারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়।

টিয়ার–৩ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচারবিষয়ক প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন শ্রেণি। এই শ্রেণিতে রাখা দেশগুলোকে মানবপাচার নির্মূলে নির্ধারিত ন্যূনতম মান পূরণে ব্যর্থ এবং এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা না চালানোর অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়।

পাল্টা অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও

মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া পাল্টা দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত এবং বার্ষিক প্রতিবেদনকে অন্য দেশগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের এসব পাল্টা অভিযোগের পক্ষে এই বিবৃতিতে নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও উত্তর কোরিয়া অস্বীকার করে আসছে। ফলে মানবাধিকার ও মানবপাচার ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। নতুন এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশের বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও সামনে এনেছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত পিয়ংইয়ংয়ের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স ও ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি।