রাষ্ট্রের সাংবিধানিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে ইউনূস প্রশাসন,আমার দৃঢ়তার কাছে তারা পরিজিত হয়েছে -মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।
ঢাকা | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
এ যেন এক প্রাসাদবন্দি রাষ্ট্রপতির রোমহর্ষক গল্প। টানা দেড় বছরের সেই বন্দিদশা আর নেই। আর সেই স্বস্তিতেই রুদ্ধকালের ঘটনাপঞ্জি প্রাণখুলে তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক-
: দীর্ঘ দেড় বছরের শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক অসহযোগিতা পেরিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে 'প্রাসাদবন্দি' করে রেখে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে নিজের পাহাড়সম দৃঢ়তা ও দেশপ্রেমের কারণে সেই চক্রান্ত নস্যাৎ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ
রাষ্ট্রপতি অভিযোগ করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন গত দেড় বছরে বারবার সংবিধান ও প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:
সংবিধান অনুযায়ী সরকারপ্রধানের বিদেশ সফর শেষে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ড. ইউনূস তার ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরের কোনোটি নিয়েই রাষ্ট্রপ্রধানকে জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
অধ্যাদেশ জারি: ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাথে কোনো প্রকার সমন্বয় করা হয়নি, যা কার্যত স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
রাষ্ট্রপতিকে সরানোর 'নীল নকশা'
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা একটি মহল অসাংবিধানিক উপায়ে তাকে অপসারণ করে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সেই পদে বসাতে চেয়েছিল।
"সরকারের একজন উপদেষ্টা সেই প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিচারপতির নৈতিক অবস্থান ও সাংবিধানিক বাধার কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।"
নিরাপত্তাহীনতা ও কোণঠাসা করার চেষ্টা
গত ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং পুনর্গঠনের মাধ্যমে তাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দৃঢ় অবস্থান ও পরবর্তী অধ্যায়
সব প্রতিকূলতার মাঝেও কেন পদত্যাগ করেননি—এমন প্রশ্নে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, "আমার রক্ত ঝরে যাবে বঙ্গভবনে, কিন্তু আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব।" তার এই অবস্থানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি এখন মুক্ত পরিবেশে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এই বিস্ফোরক মন্তব্য দেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন তর্কের জন্ম দেবে।
[x] কলামিস্ট -ফজলে রাব্বী রবনা





