শহীদ মিনারে শ্রদ্ধার পাশাপাশি মোনাজাত,প্রথমবারের মতো গিয়ে প্রশ্নের মুখে জামায়াত,শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বাঁধার মুখে জাতীয় পার্টি আর সাংসদ রুমিন ফারহানা
ঢাকা, বাংলাদেশ | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
রাষ্ট্রপতি প্রস্থান করার পর রাত ১২টা ৮ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, এ সময় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর জন্যও দোয়া করা হয়।
এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
প্রথমবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জামায়াত আমির
এবারই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত-সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পরবর্তীতে মোনাজাতে অংশ নেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তার দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি শহীদ মিনারে এসেছেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি ১৯৪৭, ১৯৭১, ১৯৯০ ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। পরে তারা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন।
বাধার অভিযোগ ও উত্তেজনা
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, শ্রদ্ধা জানাতে গেলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার সমর্থকদের বাধা দেন এবং তাকে ধাক্কা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব উপস্থিত না থাকলেও এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এর পরিণতি ‘ভয়াবহ’ হতে পারে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
ঘটনার পর রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির একটি অংশও ব্যানার নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে একটি রাজনৈতিক দলের ইউনিটের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমি
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রাষ্ট্রভাষা নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণে আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। পরে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করলে দিবসটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি পায়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।





