ইরানের সঙ্গে নিজেদের বীরত্ব দেখাতে এখন সম্পূর্ণ খাদের কিনারায় তথাকথিত পরাশক্তি আমেরিকা -তেহরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ
তেহরান, ইরান | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের ওপর গণমাধ্যমের চাপ সৃষ্টি কিংবা সামরিক শক্তির ভয় দেখিয়ে দেশটিকে নতজানু করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর দাবি, ইরানকে চাপের মুখে নতি স্বীকার করাতে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল অবলম্বন করছে, তা ভুল হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর ফলে ওয়াশিংটন নিজেই গভীর অনিশ্চয়তা ও জটিলতার মুখে পড়েছে।
গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘খাদের কিনারায়’ অবস্থান করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান ইরান অতীতের দুর্বল ইরান নয়; বরং দেশটি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও জাতীয় সংকল্পের ওপর নির্ভরশীল।

সামরিক হুমকিতে নতি স্বীকার করবে না তেহরান
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি বা সামরিক হুমকি দিয়ে ইরানের অবস্থান পরিবর্তন করানো সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, দেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং কোনো বিদেশি শক্তির চাপের কাছে সহজে নতি স্বীকার করবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ইরানের সক্ষমতা ও অবস্থান সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছে। এই ভুল মূল্যায়নই ওয়াশিংটনকে একটি জটিল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংকট থেকে বের হওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের
গালিবাফের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট বার্তা ছিল—বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ নির্ধারণ করতে হবে ওয়াশিংটনকেই। তাঁর মতে, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রাখলে সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তবে গালিবাফের এসব বক্তব্য ইরানের অবস্থান ও রাজনৈতিক মূল্যায়নকে তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল বা দেশটির পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর দাবিগুলোকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: আল-জাজিরা





