ইসরায়েলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ, চরমভাবে কোনঠাসায় শক্তিশালী এই নেতা
তেল আবিব, ইসরায়েল | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ থেকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
নিরাপত্তাব্যর্থতার তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
বিক্ষোভের আয়োজক ছিল ‘অক্টোবর কাউন্সিল’—হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, সাবেক জিম্মি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও হামলার সময় ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যেসব ব্যর্থতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই শুধু তদন্ত নয়, সরকার পরিবর্তনেরও দাবি তোলেন।

বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ
সমাবেশে ইসরায়েলের বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন গাদি আইজেনকোট ও ইয়ার গোলানসহ নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। বিক্ষোভটি নির্বাচনের আগে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার প্রশ্নটিকে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
স্বাধীন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ
নেতানিয়াহুর সরকার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে সম্মতি দেয়নি। পরিবর্তে সরকার ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। বিরোধী নেতারা রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং এমন কমিশনে অংশ না নেওয়ার কথা বলেছেন।
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রশ্নটি নির্বাচনী বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভ নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল





