ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র দল ‘কোমালা’র প্রধান কার্যালয়কে নিশানা করে ইরানের ড্রোন হামলা -মেহর নিউজ এজেন্সি
এরবিল, ইরাক | ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠী কোমালার একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে (২৪ অক্টোবর) বালিসান এলাকায় গোষ্ঠীটির সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে মেহর নিউজ জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থলবাহিনী ড্রোন অভিযানটি পরিচালনা করে। ইরানি সংবাদমাধ্যমটি কোমালাকে ‘সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী’ গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে, হামলায় তাদের সদর দপ্তর লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বালিসান এলাকায় ড্রোন হামলা
ইরাকের উত্তরাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ইরানি কুর্দি বিরোধী একাধিক গোষ্ঠীর ঘাঁটি ও শিবির রয়েছে। এর মধ্যে কোমালা অন্যতম। বালিসান এলাকা ইরবিল প্রদেশের অন্তর্গত।
কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাওয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোমালা জানিয়েছে, শনিবার রাতে আলানা উপত্যকায় তাদের একটি ঘাঁটিতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানে। এতে স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাদের কোনো যোদ্ধা নিহত বা আহত হননি বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।
অন্যদিকে, মেহর নিউজ হামলায় গোষ্ঠীটির উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের দাবি করেছে। তবে হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি। দুই পক্ষের বক্তব্যে এই পার্থক্যের কারণে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়।

ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযান
ইরান দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে। তবে ইসরায়েলি সহায়তার অভিযোগের পক্ষে এই হামলার ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
এর আগে ১৭ জুলাই সুলাইমানিয়া শহরের কাছাকাছি কোমালার অবস্থানে চালানো এক হামলায় গোষ্ঠীটির অন্তত নয়জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অক্টোবরেও বালিসান এলাকায় কোমালার একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যায়।
বাগদাদ ও এরবিলের জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
ইরাকের ভূখণ্ডে ইরানের ধারাবাহিক হামলা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। ২০২৩ সালের মার্চে ইরাক ও ইরান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করেছিল। কিন্তু ওই চুক্তির পরও এসব গোষ্ঠীর অবস্থানে হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের সামনে এখন একদিকে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক অভিযানের বিষয়টি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে নতুন উত্তেজনা
কোমালার ঘাঁটিতে সর্বশেষ ড্রোন হামলা ইরান ও ইরাকি কুর্দিস্তানে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতেরই আরেকটি ঘটনা। তবে হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এবং অভিযানের পূর্ণ বিবরণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়।
এ ঘটনায় ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে। একই সঙ্গে, ইরানের সীমান্তপারের সামরিক অভিযান আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ায় কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি; রুদাও; আল-আরাবিয়া, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।





