নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে নরওয়েকে ‘জঘন্য ও অকার্যকর দেশ’ বলে কটূক্তি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পোর্ট হিউরন, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র | ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে নরওয়ের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে ‘জঘন্য ও অকার্যকর’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নরওয়ের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পর নরওয়ের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা অভিবাসননীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন দেশে সংঘাত বন্ধে ভূমিকা রাখলেও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি।
নোবেল পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ
ট্রাম্পের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া। পুরস্কারটি না দেওয়ার জন্য নরওয়ের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন। এর আগেও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নরওয়ের সমালোচনা করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার নির্বাচন করে অসলোভিত্তিক নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেয় নরওয়ের পার্লামেন্ট, কিন্তু পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত কমিটিই নেয়। এটি নরওয়ে সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্ত নয়।

নরওয়ের নাগরিকদের অভিবাসন নিয়ে মন্তব্য
জনসভায় ট্রাম্প অভিবাসন নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অভিবাসীদের দায়ী করার পাশাপাশি তিনি জানান, অন্য দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে বিবেচনা করলেও নরওয়ের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তিনি আগ্রহী নন।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কার্যকর সরকারি নীতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নরওয়ের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা-নিষেধাজ্ঞা বা অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিধিনিষেধ চালুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের নীতি কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নরওয়ে
ট্রাম্পের কটূক্তির বিপরীতে নরওয়ে উচ্চ জীবনমান, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং বিশাল রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের জন্য পরিচিত। দেশটির অর্থনীতিতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নরওয়ের সরকারি সম্পদ তহবিল বিশ্বের বৃহত্তম সার্বভৌম সম্পদ তহবিলগুলোর একটি।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তহবিলটির ১৮৪.৩ বিলিয়ন ডলার মুনাফার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে তহবিলের আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
নরওয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই
ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির তাৎক্ষণিক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা আরব নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও নরওয়ের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাঁর মন্তব্যের ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতিতে বাস্তব কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কি না, তা জানতে পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
সূত্র: আরব নিউজ।





