Breaking
চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ইরান ও রাশিয়ার গ্যাস বিনিময় চুক্তি—জানালেন তেহরানের ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বভার্দ

চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ইরান ও রাশিয়ার গ্যাস বিনিময় চুক্তি—জানালেন তেহরানের ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বভার্দ

Share:

Written By

News Desk

চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে ইরান ও রাশিয়ার গ্যাস বিনিময় চুক্তি—জানালেন তেহরানের ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হামিদ বভার্দ

তেহরান, ইরান | ২৬ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে গ্যাস বিনিময়সংক্রান্ত বিস্তৃত চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হামিদ বভার্দ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফরকালে তিনি এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)।

গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের (জিইসিএফ) অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সফরসঙ্গী হিসেবে মস্কো যান বভার্দ। সফরকালে তিনি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার এবং গ্যাস বিনিময় চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি, গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ এবং চুক্তিটি আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে রাশিয়ার গ্যাস ইরানে পরিবহনের পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

২০২৪ সালে শুরু হয় গ্যাস সহযোগিতার নতুন অধ্যায়

ইরান ও রাশিয়ার গ্যাস খাতে সহযোগিতা ২০২৪ সালের জুনে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। ওই সময় ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান গ্যাস কোম্পানি এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রম রাশিয়া থেকে ইরানে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা যাচাই করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানান, আজারবাইজানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাশিয়ার গ্যাস ইরানে পরিবহনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বছরে প্রায় ১৮০ কোটি ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পটির বার্ষিক সরবরাহক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরানের গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় রাশিয়ার ভূমিকা বাড়তে পারে। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন, পরিবহন অবকাঠামো এবং চূড়ান্ত সরবরাহের পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গ্যাসের মূল্য ও অর্থ পরিশোধ নিয়ে আলোচনা

রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে।

২০২৬ সালের জুনে ইরানের ন্যাশনাল ইরানিয়ান গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাঈদ তাভাকোলি জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির চুক্তি চূড়ান্ত করতে এসব বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

সর্বশেষ বক্তব্যে হামিদ বভার্দ চুক্তি নিয়ে অগ্রগতির কথা জানালেও মূল্য নির্ধারণ, অর্থ পরিশোধ এবং সরবরাহের শর্তগুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াচ্ছে তেহরান-মস্কো

ইরান ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। জ্বালানি খাত এই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। গ্যাস বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশ বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারেও গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

এর আগে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে, গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর ফোরামের অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে আগামী দিনগুলোতে পেজেশকিয়ান ও পুতিনের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি বাণিজ্য এবং দুই দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

আঞ্চলিক জ্বালানি বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব

ইরান-রাশিয়ার গ্যাস বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে গ্যাস পরিবহনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক গ্যাস সরবরাহব্যবস্থায় নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, সরবরাহের পরিমাণ, মূল্য নির্ধারণ, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং পরিবহনব্যবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)।