পাকিস্তানে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে স্কুলে ছাদ ধসে অন্তত ৩৪ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত -প্রদেশজুড়ে শোকের মাতন
পেশোয়ার, পাকিস্তান | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের একটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের ছাদ ধসে অন্তত ৩৪ শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৩ বছর বা তার কম। দুর্ঘটনার পর প্রদেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল ভবন পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আল-খাইর স্কুলে ছাদ ধসের এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার কর্তৃপক্ষ স্কুল ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাদেশিক শিক্ষা বিভাগকে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
স্কুল ভবনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের নির্দেশ
প্রাদেশিক প্রশাসনকে স্কুল ভবনগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে পরিদর্শনের আওতায় সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকবে, নাকি শুধু বেসরকারি স্কুলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিদর্শনের পর ভবনগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—নিরাপদ, মেরামত বা উন্নয়ন প্রয়োজন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় ভবনের ছাদ, সিলিং, দেয়াল, সিঁড়ি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত অংশ পরীক্ষা করা হবে।

স্কুলমালিক গ্রেপ্তার, ভবনের দুর্বল কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন
দুর্ঘটনার পর আল-খাইর স্কুলের মালিক মোহাম্মদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পেশোয়ারের পুলিশপ্রধান সাঈদ আহমেদ জানিয়েছেন, স্কুল ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা দুর্বল ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে ভবনটির কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে স্কুলমালিক পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে ভবনটির প্রকৃত অবস্থা, ছাদ ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এ ঘটনায় কারও অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
আগেই পানি চুইয়ে পড়ার অভিযোগ, বিচার দাবি স্বজনদের
নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। কয়েকটি পরিবারের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি তাঁরা আগেই স্কুলমালিককে জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল স্কুলের বাইরে নিহতদের স্মরণে কয়েক ডজন শোকাহত মানুষ জড়ো হন। স্বজনদের কাছে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রিয়জন হারানোর বেদনাই নয়, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকেও সামনে এনেছে।
ভবন নির্মাণের মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
পাকিস্তানে ভবন নির্মাণের মান এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক স্কুল দুর্ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নিয়মিত পরীক্ষা এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।
এর আগে গত জুনে পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোরে একটি বেসরকারি টিউশন সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ জন নিহত হন। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনা ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে তদারকি জোরদার করার দাবি বাড়িয়েছে।
পেশোয়ারের স্কুলে প্রাণহানির ঘটনা পাকিস্তানের শিক্ষা খাতের জন্য এক গভীর শোকাবহ অধ্যায় হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা এখন কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
দ্য গ্লোবাল জার্নাল | আন্তর্জাতিক সংবাদ ও বিশ্লেষণ





