মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ৬ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে সংকট প্রশমনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক দেশগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা করেছেন।
শুক্রবার কাতারের আমিরের মিডিয়া অফিসের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শেখ তামিমের ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা এবং উত্তেজনা প্রশমনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংকটের অবসান ঘটিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ‘সমন্বিত চুক্তি’ অর্জনে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার মুখে পড়েছিল কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে এসব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জ্বালানি অবকাঠামো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ফোনালাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনৈতিক পদ্ধতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যকে আরও সামরিক উত্তেজনা থেকে রক্ষা করা, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ইরান-মিসর কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও মিসরের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাদের জাকিরের বরাতে জানা যায়, আলোচনায় আবদেলাত্তি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে নমনীয়তা ও সমঝোতার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংঘাতের বিস্তার এড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে আরাঘচি তুরস্ক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন। এসব যোগাযোগে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কার মধ্যে কাতার, মিসর ও তুরস্কসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নতুন করে যুদ্ধের বিস্তার ঠেকানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করাই এখন এসব উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।









