বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ৭৭ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে- ফের ঢাকায় রাজনৈতিক সংকটের তীব্র আশঙ্কা
ঢাকা,বাংলাদেশ | ৬ এপ্রিল, ২০২৬ |দ্যা গ্লোবাল জার্নাল
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ৭৭ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং দেশজুড়ে তীব্র উত্তাপ বাড়ছে । ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ সংশোধন করে তা সংসদে পাশের সুপারিশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ৭৭ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমই বন্ধ হবে না, বরং দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এতো বড,পুরনো এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাদের মতে, এতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যেতে পারে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য বিরোধী শক্তি, বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফল ভোগ করতে হবে।
আওয়ামী লীগের ৭৭বছরের ইতিহাসে দমন-পীড়ন বা নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো এই রাজনৈতিক দলটি এবারই প্রথম এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দলটি এর আগেও কয়েকবার রাজনৈতিক সংকটে পড়েছিল । ৭৭ বছরের পুরনো এই রাজনৈতিক দলটি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক দশক পেরোনোর আগেই ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন কালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন আইয়ুব খান । ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী "অপারেশন সার্চলাইট" এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান'কে গ্রেপ্তার করে। পরদিন, ২৬শে মার্চ, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে "রাষ্ট্রদ্রোহী" ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন ।
এরপর ২০২৫ - অন্তর্বর্তী সরকার ড.ইউনূস এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । এছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ই অগাস্ট - শেখ মুজিবুর রহমান কে সহ'পরিবারে হত্যাকাণ্ড পরবর্তী আওয়ামী লীগ'কে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখা হয়, শীর্ষ চার নেতাকে জেলে হত্যা করা হয়। ১৯৮২–১৯৯০ - এরশাদ আমলের প্রথমদিকে সামরিক শাসন চলাকালে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ না হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
২০০১–২০০৬ - বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, সহিংসতা ,সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন। দলীয় কার্যালয়, সভা-সমাবেশে বাধা। ২০০৭–২০০৮ - তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার গ্রেপ্তার দলীয় কার্যালয়, সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হয় ।

সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে নেওয়া পদক্ষেপ পরবর্তী বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে নতুন নিষিদ্ধ আইন সংসদে পাশের সুপারিশে দলটি আবারও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দাবি—ইতিহাসে বারবার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দলটি প্রতিবারই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাস মূলত সংগ্রাম ও প্রতিরোধের ইতিহাস।আইয়ুব,ইয়াহিয়া আর দখলদার ইউনূস ও আওয়ামীলীগ'কে নিষিদ্ধ করে দাবায়ে রাখতে পারে নাই,আপনারা তো প্রশ্নেই আসে না।আওয়ামীলীগের ৭৭বছরের ইতিহাস রাজপথে সংগ্রামের ইতিহাস। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে,ততদিন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগও থাকবে ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। এটি রাজনৈতিক সংকট বাড়াবে,এবং দেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।
Columnist: Mr. Fazle Rabbi || Special South Asian Political Correspondent [Bangladesh]





