Breaking
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্মকাণ্ডকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিযোগ করেছেন -মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্মকাণ্ডকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিযোগ করেছেন -মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

World News4/14/2026
Share:

Written By

News Desk

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্মকাণ্ডকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিযোগ করেছেন -মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

দ্য গ্লোবাল জার্নাল | ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কর্মকাণ্ডকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তেহরান যদি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ বজায় রাখবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে দেখিয়েছেন যে এই খেলায় দুই পক্ষই অংশ নিতে পারে। যদি ইরান অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকে, তবে কোনো ইরানি জাহাজও তাদের বন্দর থেকে বের হতে পারবে না।”

নৌ অবরোধ কার্যকর ও সামরিক ঘোষণা

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সূত্রমতে, সোমবার ১৪০০ GMT থেকে ইরানের সমস্ত উপসাগরীয় বন্দরে পূর্ণাঙ্গ নৌ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই ওয়াশিংটন এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, এই অবরোধ শুধুমাত্র ইরানের নিজস্ব জাহাজ বা ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক যানের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর জন্য পথ খোলা থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত সতর্কবার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “অবরোধ চলাকালীন ইরানের কোনো ‘দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক জাহাজ’ (Fast Attack Craft) যদি মার্কিন বা আন্তর্জাতিক জাহাজের কাছে আসার চেষ্টা করে, তবে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস (ELIMINATED) করা হবে।” ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে ইরানি নৌবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

শান্তি আলোচনার শর্ত ও পারমাণবিক ইস্যু

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তেহরানের সাথে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় এক সময় “অনেক অগ্রগতি” হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে “বল এখন ইরানের কোর্টে”। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে অবশ্যই নমনীয়তা প্রদর্শন করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।

 ওয়াশিংটনের প্রধান দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে:

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর মার্কিন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।

ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না, তা নিশ্চিত করতে একটি কঠোর আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ ব্যবস্থায় সম্মতি।

চরম উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্য

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, রবিবার রেকর্ড সংখ্যক ৩৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যদিও এই তথ্যের কোনো স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।