Breaking
একের পর এক ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার অনিশ্চয়তার মধ্যেও সৌদি সফরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সাদরে আমন্ত্রন জানালেন ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান

একের পর এক ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার অনিশ্চয়তার মধ্যেও সৌদি সফরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সাদরে আমন্ত্রন জানালেন ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান

Share:

Written By

News Desk

একের পর এক ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার অনিশ্চয়তার মধ্যেও সৌদি সফরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। সাদরে আমন্ত্রন জানালেন ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান

রিয়াদ, সৌদি আরব | ২২ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব সফরে গেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে তাঁর এই সফরে রাজধানী রিয়াদে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহের সুরক্ষা এবং সৌদি আরবের প্রতি ফ্রান্সের সমর্থনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, হুথি হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধির পর ম্যাক্রোঁ সৌদি আরব সফরকারী প্রথম পশ্চিমা নেতা। তাঁর এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রতি দেশটির গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা প্যারিসের

ম্যাক্রোঁর সৌদি আরব পৌঁছানোর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করাই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে হাইড্রোকার্বন বা জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখা এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ম্যাক্রোঁ বলেন, তিনি কেবল “নিজের দায়িত্ব পালন করছেন”।

সৌদি আরব সফরের আগে কাতার সফর করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি জানান, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতে ফরাসি সামরিক সদস্য ও সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। ইয়ানবু লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানি কেন্দ্র। আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

মুকাল্লায় সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি হুথিদের

এদিকে, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশের রাজধানী মুকাল্লার আল-রাইয়ান বিমানবন্দরে সামরিক কার্গো বিমানে করে পাঠানো সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী আনসার আল্লাহ। একই সঙ্গে সামরিক উদ্দেশ্যে বেসামরিক স্থাপনা ব্যবহার না করার বিষয়ে রিয়াদকে সতর্ক করেছে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে।

তবে সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা তাই শুধু রিয়াদের জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এই পরিস্থিতিতে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ম্যাক্রোঁর সফর একদিকে সৌদি আরবের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগও তুলে ধরছে।

তবে হুথি গোষ্ঠীর হামলার দাবি, সৌদি সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।