Breaking
লেবাননে চলমান দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটিতে একটি ‘বিশাল’ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কাতার

লেবাননে চলমান দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটিতে একটি ‘বিশাল’ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কাতার

Share:

Written By

News Desk

লেবাননে চলমান দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটিতে একটি ‘বিশাল’ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কাতার

বৈরুত, লেবানন | ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

লেবাননের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে দেশটিতে একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে কাতার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি কাতারএনার্জি এবং ফরাসি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান টোটালএনার্জিস যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

শুক্রবার বৈরুতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সঙ্গে বৈঠকের পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানি এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দুই দেশ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে এবং লেবাননের বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সম্মত হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি হবে একটি বড় বিনিয়োগ উদ্যোগ, যা লেবাননের অর্থনীতির পাশাপাশি এতে অংশগ্রহণকারী কাতারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় ব্যয় ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা শিগগিরই দেশটির মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেওয়া হবে, ফলে এ উদ্যোগের জন্য লেবানন রাষ্ট্রকে সরাসরি ব্যয় বহন করতে হবে না।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা লেবাননের জন্য এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোনো অবকাঠামো, অতিরিক্ত জনবল এবং বিপুল আর্থিক লোকসানের কারণে চাপে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশকে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লোকসান ও ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশটির বহু এলাকায় প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়। জ্বালানি আমদানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় মেটাতে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারকে নানা আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লেবাননের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতা, নির্মাণের সময়সীমা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের আহ্বান

বৈরুত সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গেও বৈঠক করেন। আলোচনায় দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান বিশেষ গুরুত্ব পায়।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ও কথিত লঙ্ঘনের বিষয়টি তাঁর আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তিনি ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে কাতার। এর লক্ষ্য হলো, সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ যেন নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনের সুযোগ পায়।

যুদ্ধবিরতির পরও বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত জুনে সম্মত হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমঝোতায় লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে। বিনিময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহ ওই চুক্তির অংশ নয় এবং ইসরায়েল লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়নি।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের তীব্রতম পর্যায়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, জুনের যুদ্ধবিরতির পর অধিকাংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ বাড়িতে ফিরলেও এখনো তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম দেশটির সংকটের কঠিন সময়ে কাতারের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কাতারের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্যোগ একদিকে লেবাননের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের পুনর্গঠন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দোহার কূটনৈতিক তৎপরতারও প্রতিফলন ঘটায়।

সূত্র: আল জাজিরা