ইউক্রেনের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রর যুদ্ধে মধ্যেও রাশিয়ান সংবাদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক আসনে বিপুলে ব্যবধানে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল -ইউনাইডেট রাশিয়া
মস্কো, রাশিয়া | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনার পর ইউনাইটেড রাশিয়া ৫৭.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় দলটি ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই সংখ্যা দলটির জন্য ডুমায় নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে ইউনাইটেড রাশিয়া ৩৪৩টি আসন পেয়েছিল।
পুতিনের কাছে নির্বাচনের রাজনৈতিক তাৎপর্য
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনকে ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের প্রতি দেশের ঐক্য ও সমর্থনের একটি পরিমাপক হিসেবে তুলে ধরেছেন। নির্বাচনটি ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন।
তবে নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে। Reuters ও DW-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরোধী অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান কয়েকটি দল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্রেমলিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে।

ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোতেও ভোট
এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলেও ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। মস্কো এসব অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করলেও ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
ইউক্রেন এসব অঞ্চলে রাশিয়ার নির্বাচন আয়োজনকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফ্রান্সও নির্বাচনের সময় অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে ভোট আয়োজনের সমালোচনা করেছে।
চেচনিয়ায় কাদিরভের ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট
রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র রমজান কাদিরভ পঞ্চমবারের মতো আঞ্চলিক নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কাদিরভ ৯৯.৮৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তাঁর ভোটের হার ছিল ৯৯.৭৩ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো চেচনিয়ার নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ কাদিরভ প্রশাসনের বিরুদ্ধে রয়েছে, যদিও তিনি ও তাঁর প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
যুদ্ধ, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নির্বাচন
তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবেশে। ইন্টারনেট ও মতপ্রকাশের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল।
নির্বাচনের আগে নতুন করে সেনা সমাবেশ হতে পারে—এমন আলোচনা থাকলেও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এ ধরনের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছিলেন। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি ঘাটতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের শেষ দিন মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে। রুশ কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করে।
ইউনাইটেড রাশিয়ার নতুন রেকর্ড
৩৫৫টি আসন পেলে স্টেট ডুমায় ইউনাইটেড রাশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও বাড়বে এবং এটি দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা হবে। ২০২১ সালে দলটি ৩৪৩টি আসন পেয়েছিল।
তবে নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং অধিকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে ভোটগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল যেমন রুশ সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে, রয়টার্স





