বিমানবন্দরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং'কে এক অনন্য অসাধারণ অভ্যর্থনায় যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে স্বাগতম জানালেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের শুরুতে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরুতে শির জন্য ১০০ ফুট (প্রায় ৩০ মিটার) দীর্ঘ লাল গালিচা, সম্মানরক্ষী বাহিনী, সামরিক ব্যান্ড, কামানের আনুষ্ঠানিক স্যালুট এবং দুইটি B-1 বোমারু বিমানের ফ্লাইওভারসহ জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়।
শি জিনপিং ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় সময় প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটে এয়ার চায়নার বিশেষ বিমানে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে পৌঁছান। ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিমানটির কাছে গিয়ে শি ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে স্বাগত জানান। দুই দম্পতি করমর্দন করেন এবং লাল গালিচা ধরে কিছু দূর একসঙ্গে হাঁটেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং সামরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
২০১৫ সালের পর প্রথম ওয়াশিংটন সফর
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ২০১৫ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ওয়াশিংটন সফর এবং ছয় মাসের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় সফর। সফরে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন।

বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়ানোর সমঝোতা
শির সফরের আগেই ওয়াশিংটন ও বেইজিং বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাস বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রাখার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন। আগের সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বরের শুরুতে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং-এর বৈঠকে দুই পক্ষ বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে।
‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত’—শি
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবর্তে অংশীদার হওয়া উচিত।’ তিনি দুই দেশের স্বার্থের পারস্পরিক আন্তঃনির্ভরতার কথা উল্লেখ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সহযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
শি আরও বলেন, চীনা জাতির মহান পুনর্জাগরণ এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে।
AI, তাইওয়ান, ইরান যুদ্ধ ও বাণিজ্য আলোচনার কেন্দ্রে
তিন দিনের সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, রেয়ার আর্থ বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, তাইওয়ান এবং ইরান যুদ্ধসহ বেশ কিছু সংবেদনশীল বিষয় আলোচনায় থাকার কথা রয়েছে। দুই দেশই AI প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় রয়েছে, অন্যদিকে রেয়ার আর্থ সরবরাহ ও শুল্কনীতিও দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
তাইওয়ান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি সীমিত বা বন্ধ করার বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।
বিরল বিমানবন্দর অভ্যর্থনা
জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে শিকে স্বাগত জানানোর ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের প্রচলিত প্রোটোকলের তুলনায় বিরল। ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা রাষ্ট্রীয় সফরের অতিথিদের সাধারণত হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬২ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলানকে অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানিয়েছিলেন; পোপের সফর বাদ দিলে এ ধরনের ব্যক্তিগত বিমানবন্দর অভ্যর্থনা অত্যন্ত বিরল।
রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ ও পরবর্তী কর্মসূচি
শির সফরের দ্বিতীয় দিনে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ আয়োজনের কথা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া শি ও পেং লিয়ুয়ানের জন্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও রাখা হয়েছে।
সফরের শেষ দিনে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের স্ত্রীদের ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শি জিনপিংয়ের এ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে একাধিক মতপার্থক্য রয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও কিছুদিন বজায় রাখার সমঝোতা দুই দেশের সম্পর্ককে আলোচনার একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।





