Breaking
সোমবার ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন  ন্যাটো-ধাঁচের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি-এর  আওতায় তুরস্ক,সৌদি আরব ও পাকিস্তান

সোমবার ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ন্যাটো-ধাঁচের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি-এর আওতায় তুরস্ক,সৌদি আরব ও পাকিস্তান

Share:

Written By

News Desk

সোমবার ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকে বসছেণ ন্যাটো-ধাঁচের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি-এর আওতায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান

— গ্লোবাল জার্নাল | ইস্তাম্বুল | ৩০ আগস্ট         

                                                                                                                                                                                                                মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান সোমবার ইস্তাম্বুলে প্রথম বৈঠকে বসছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক বাহিনীর প্রধানরা অংশ নিতে পারেন। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটি তিন দেশের প্রথম কমিটি বৈঠক।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য হবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

এতে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ উৎপাদন এবং সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য আগ্রাসনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা জোরদার করা।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই বিধানটি ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে অনেকটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেই তিন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান ইসরায়েল ও ইরানের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের ছয় মাস পরও কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

তবে চুক্তিতে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ও সহযোগিতার নীতি থাকলেও নির্দিষ্ট সামরিক কার্যক্রম বা পরিচালনাগত বাধ্যবাধকতার বিস্তারিত কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা

তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আরও দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে এটি বিদ্যমান কোনো সামরিক জোটের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি বলেও জানিয়েছে আঙ্কারা।

মিশরকে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বলে আগে জানিয়েছিল রয়টার্স।

রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জুনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ঢাকার পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, সৌদি আরব বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা এখনো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিন অংশগ্রহণকারী দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

— গ্লোবাল জার্নাল | ইস্তাম্বুল | ৩০ আগস্ট

সূত্র: রয়টার্স