Breaking
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে গুদামে রুশ বিমান হামলা,নিহত অন্তত ২৭ জন,আহত আরও ৪২ জন -গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো

ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে গুদামে রুশ বিমান হামলা,নিহত অন্তত ২৭ জন,আহত আরও ৪২ জন -গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো

World NewsWar8/29/2026
Share:

Written By

News Desk

ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে গুদামে রুশ বিমান হামলা,নিহত অন্তত ২৭ জন,আহত আরও ৪২ জন -গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো

কিয়েভ | ২৯ আগস্ট ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশের বুচা জেলায় একটি গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ৪২ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তাকাচেঙ্কো শনিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

হামলাটি শুক্রবার রাতে মিলা গ্রামে একটি গুদামকে লক্ষ্য করে চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন আঘাতের পর গুদামে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আবাসিক এলাকা ও একটি রেস্তোরাঁয়। হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

গুদামে বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়ে আগুন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মিলা গ্রামের গুদামটিতে হামলার পর একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। পরে আগুন ও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে ছয়জন আহত হওয়ার খবর এলেও পরে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়ায়। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিস্ফোরক সংরক্ষণ নিয়ে তদন্ত

হামলার পর গুদামটিতে গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম রয়েছে এবং এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

ইউক্রেনের প্রসিকিউটর অফিস একটি তদন্ত শুরু করেছে। এর আওতায় ওই স্থাপনায় বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ আইনসঙ্গত ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমতি ও সরকারি অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আবাসিক এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি

বিস্ফোরণের প্রভাবে আশপাশের আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবাকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন।

কিয়েভ অঞ্চলের প্রশাসনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৩৮০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজও অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়া–ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি দীর্ঘপাল্লার হামলা

এই হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে। গুদাম, আবাসিক ভবন, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামোও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

কিয়েভ অঞ্চলের সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের পাশাপাশি বেসামরিক জীবন ও অবকাঠামোর ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এদিকে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ গুদামে বিস্ফোরক সংরক্ষণের বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করছে, যাতে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।