ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে—জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি
তেহরান, ইরান | ১ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাবে নতুন ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত হানা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির (এমএনএ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রেজায়ি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার সর্বাধুনিক উপকরণ ব্যবহার করে।
কূটনীতির পথ এখনো খোলা, তবে রয়েছে সাতটি শর্ত
রেজায়ি জানান, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষিত সাতটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল কূটনীতির পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান বারবার জানিয়েছে যে এসব শর্ত পূরণ ছাড়া আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের বাস্তব সম্ভাবনা সীমিত।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা অনুযায়ী আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ
ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসেইনি খামেনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই রেজায়ি এ কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
সর্বোচ্চ নেতা সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো ধরনের ও মাত্রার হুমকির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা না রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদের নির্দেশ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘শত্রুপক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।
এ লক্ষ্যে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ও সংশ্লিষ্ট ডেটাবেজ ব্যাপকভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা আরও কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। একদিকে তেহরান নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে আলোচনার সুযোগ রাখার কথা বলছে, অন্যদিকে যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছে।
সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)









