দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের সফল পরীক্ষা চালাল কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া
পিয়ংইয়ং, উত্তর কোরিয়া | ১ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সামরিক বাহিনীকে আরও দূরপাল্লার ও অধিক বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে চলমান সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে শনিবার (৩১ অক্টোবর) এ পরীক্ষা চালানো হয়। রোববার (১ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত ক্লাস্টার বোমার ওয়ারহেডের কার্যকারিতা ও বাস্তব সক্ষমতা যাচাই করা। উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, পরীক্ষায় অস্ত্রটির ব্যাপক ধ্বংসক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ঘনত্বের বিস্ফোরক শক্তি ব্যবহার করে ওয়ারহেডটি ১২ থেকে ১৩ হেক্টর আয়তনের একটি লক্ষ্যবস্তু এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করতে সক্ষম।
চলতি বছরেই সামরিক ইউনিটে ব্যবহারের পরিকল্পনা
উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রশাসনের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই দেশটির সামরিক ইউনিটগুলোকে এসব অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা দেওয়া হবে। অভিযানের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যবস্তুর ধরন বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনী অস্ত্রটির উপযুক্ত সংস্করণ নির্বাচন ও প্রয়োগ করতে পারবে বলেও জানান তিনি।
কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে একটি মোবাইল লঞ্চার থেকে কমলা রঙের আগুনের শিখা ছড়িয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে দ্বীপাঞ্চলের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ওপর একযোগে একাধিক ক্লাস্টার বোমার আঘাত হানার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যে ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা
শনিবারের পরীক্ষার কয়েক দিন আগেও উত্তর কোরিয়া একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। এসব অস্ত্রের মধ্যে ছিল অ্যাটাক ড্রোন, নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম নতুন টর্পেডো এবং মাঝারি পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।
এদিকে, দুই কোরিয়ার মধ্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা সদস্য আহত হওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং। পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং লাউডস্পিকারের মাধ্যমে পাল্টা প্রচার শুরু করার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটি।
পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না কিম জং-উন
শনিবারের এই সামরিক মহড়ায় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে গত এপ্রিলে নিজের মেয়ে জু আয়েকে সঙ্গে নিয়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্ত ক্লাস্টার বোমার একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং দুই কোরিয়ার সীমান্তে উত্তেজনা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। নতুন এই পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বার্তা দিয়েছে পিয়ংইয়ং।
সূত্র: এএফপি, কেসিএনএ









