হরমুজ প্রণালির কাছে আরব উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছে পাকিস্তানগামী প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকার ‘আল মায়েদা’
দোহা, কাতার | ২ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
হরমুজ প্রণালির কাছে আরব উপসাগরে হামলার শিকার হয়েছে পাকিস্তানগামী কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) ট্যাংকার ‘আল মায়েদা’। জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য ইরানের কাছ থেকে আগাম অনুমতি পেয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপরও হামলার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটি কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে পাকিস্তান আগেই কূটনৈতিক চ্যানেলে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্যাংকারটিকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সবুজ সংকেত দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু অনুমতি পাওয়ার পরও জাহাজটি হামলার মুখে পড়ে। ঘটনার পর ট্যাংকারটি গতিপথ পরিবর্তন করে বিপরীত দিকে ফিরে যায়।

কাতারের গ্যাসবাহী জাহাজে হামলা, নিরাপদ ২৫ নাবিক
শনিবার কাতারের রাষ্ট্রীয় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, আরব উপসাগরে তাদের একটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। জাহাজটি কাতারের মালিকানাধীন হলেও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ছিল। ঘটনাসংশ্লিষ্ট এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ট্যাংকারটি কাতার থেকে গ্যাস নিয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, হামলার সময় জাহাজটিতে ছয় ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ২৫ জন ক্রু ছিলেন। তাঁদের সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলার ধরন, সম্ভাব্য অস্ত্র কিংবা জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও হামলা, উঠছে প্রশ্ন
ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছিল। এরপরও কেন ট্যাংকারটি হামলার শিকার হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলার পেছনে কারা জড়িত এবং কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মাসেও পাকিস্তান কাতার থেকে আসা একাধিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি পার করে ওমান উপসাগর পর্যন্ত নিয়ে এসেছিল। ফলে এবার আগাম অনুমতি থাকা সত্ত্বেও একটি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
পাকিস্তান ও ইরানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশ দুটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানি নয়, পাকিস্তানসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি এলএনজিবাহী ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে হামলার দায়, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিষয়টির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে না।
সূত্র: ব্লুমবার্গ ও ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রীর বক্তব্য









