দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান,প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার
সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া | ২ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দেশটির রাজধানী সিউলে পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের আমন্ত্রণে সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি এই সফর শুরু করেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিউলের নিকটবর্তী সিওংনাম শহরে অবস্থিত সিউল বিমানঘাঁটিতে এরদোয়ান ও তাঁর স্ত্রী এমিনে এরদোয়ানকে স্বাগত জানান দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী পার্ক জং-সুং। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ফাতিহ ইলদিজ ও তাঁর স্ত্রী নেসরিন ইলদিজ উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে সিউলে এরদোয়ান
এরদোয়ানের সঙ্গে সফরে রয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের এবং শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ জাসির।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) উপপ্রধান ও স্বাস্থ্যনীতিবিষয়ক প্রধান হালিত ইয়েরেবাকান এবং প্রতিরক্ষা শিল্পবিষয়ক সচিব হালুক গোরগুন। সফরে বিভিন্ন খাতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ দুই দেশের সহযোগিতার বিস্তৃত পরিসরকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন এরদোয়ান। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে তাঁর এই রাষ্ট্রীয় সফর।
বৈঠকে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা
সফরকালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এরদোয়ানের এই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স









