আমাদের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ফেলে এবার কোন ভৌগোলিক সীমারেখা মানবে না ইরানের সামরিক বাহিনী—মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহির
তেহরান, ইরান | ১ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে আগের চেয়েও কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ এবং খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না এবং প্রতিপক্ষের সামরিক পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা না করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে ইরানের বাহিনী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা খামেনি নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে। ওই নির্দেশনার পর এক বিবৃতিতে আবদোল্লাহি ইরানের সামরিক বাহিনীর অবস্থান তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের বা মাত্রার আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত তেহরান। নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানো হলে এবার ভিন্ন কৌশলে জবাব দেওয়া হবে এবং সেই জবাব হবে ‘তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের’ সময়ের প্রতিক্রিয়ার চেয়েও অনেক বেশি কঠোর।

প্রতিপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে ইরান
আবদোল্লাহি আরও জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের গতিবিধি, সামরিক প্রস্তুতি ও তৎপরতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকাও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শত্রুতামূলক পদক্ষেপের লক্ষণ নিশ্চিত হলে প্রতিপক্ষের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে না ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতামুক্ত।
সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশকে কেন্দ্র করে সামরিক অবস্থান
ইরানের সামরিক নেতৃত্বের এই বক্তব্যে সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত।
তেহরানের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে আবদোল্লাহির বক্তব্য ইরানের সামরিক অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে দেওয়া একটি সতর্কবার্তা; এর বাস্তব প্রয়োগ পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপথের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: মেহের নিউজ (Mehr News Agency)









