‘চাইলেই যেকোনো সময় ইরানকে পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র’—কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
সালিনা, কানসাস, যুক্তরাষ্ট্র | ৩ নভেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানকে যেকোনো সময় পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তেহরানের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় দেশটির কার্যক্রম অচল করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সালিনা শহরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের ৩০তম ও শেষ নির্বাচনী সমাবেশে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমাবেশে তিনি বলেন, “আমরা ইরানের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছি। চাইলে যেকোনো সময় তাদের অচল করে দিতে পারি।”
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে তাঁর মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা ভালোভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। কখনো কখনো এভাবে চলতে পারে না। আমরা কিছুটা নমনীয় হওয়ার চেষ্টা করছি। তবে আমার মনে হয়, পরিস্থিতি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আমরা তাদের পুরোপুরি অচল করে দেব। তাহলেই সবকিছুর অবসান হবে।”

‘যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি’—আইওয়ায় ট্রাম্পের মন্তব্য
অন্যদিকে, আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তবে যতটা সম্ভব প্রাণহানি এড়াতে চান বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “আমি ভালো হতে চাই এবং যতটা সম্ভব মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছি।”
তবে একই বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “কিন্তু একটা সময় আসবে, যখন আমাদের তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে হবে।”
এ সময় তিনি আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়েও বক্তব্য
নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে পেট্রলের বাড়তি দাম খুবই সামান্য মূল্য। তবে শিগগিরই জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য দুই দেশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলা এবং অন্যদিকে ইরানকে অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি—ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা









