বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ,কোনো আসনে ভোট কাস্টিং ২৪৪%
ঢাকা,বাংলাদেশ ১৩|দ্য গ্লোবাল জার্নাল| ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটকে ঘিরে প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত পরিসংখ্যানে একাধিক আসনে অস্বাভাবিক তথ্য ও গড়মিলের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে একটি আসনে ভোট কাস্টিং ২৪৪ শতাংশ দেখানোকে কেন্দ্র করে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
ইসির তথ্যমতে, মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ২ হাজার ৩৩৪ জন। গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’ ভোট পেয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। বাতিল বা অবৈধ ভোট হয়েছে ৭৪ লাখ ২ হাজার ২৮৫টি। শতাংশ হিসেবে প্রায় ৬২.৪৭ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২৯.৩২ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে।
রাজশাহী-৪ আসনে ২৪৪% ভোট কাস্টিং
ইসি প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন হলেও ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি—যা ২৪৪.২৯৫ শতাংশ। এ আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২।
সিরাজগঞ্জ-১ ও নেত্রকোনা আসনগুলোতে অসঙ্গতি
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গণভোটের কাস্টিং দেখানো হয়েছে মাত্র ৭.৮৯৯ শতাংশ, যদিও একই দিনে সংসদ নির্বাচনে সেখানে ভোট পড়েছে ৬০.৮৩ শতাংশ।
নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে। নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ হলেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি। তবে মোট প্রদত্ত ভোট ও কাস্টিং শতাংশের হিসাবে বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে।
১১ আসনে ‘না’ জয়ী
২৯৯টি আসনের মধ্যে ১১টিতে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এবং গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে ‘না’ ভোট বেশি পড়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহ-১, সুনামগঞ্জ-২, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ ও রাজশাহী-৪ আসনেও ‘না’ জয়ী হয়েছে।
১৩ ফেব্রুয়ারির সংবাদ সম্মেলনে জোটের অভিযোগ
ফলাফল প্রকাশের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামিসহ ১১-দলীয় জোটের নেতারা ভোট কারচুপি ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল পরিবর্তন’-এর অভিযোগ তোলেন। তারা দাবি করেন, প্রকাশিত ফলাফল বাস্তব ভোটের প্রতিফলন নয়।
এনসিপির আহ্বায়কও একই অভিযোগ তুলে প্রয়োজন হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন
এমন অস্বাভাবিক ভোটের হার ও পরিসংখ্যানগত অসঙ্গতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।
কলামিস্ট: ফজলে রাব্বী রবনা





