Breaking
বন্ধ থাকা কার্যালয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা,বাড়ছে মিছিল-মিটিংয়ে তৎপরতা,তবে কি শীগ্রই  রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়ামী'লীগ ?

বন্ধ থাকা কার্যালয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা,বাড়ছে মিছিল-মিটিংয়ে তৎপরতা,তবে কি শীগ্রই রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়ামী'লীগ ?

বিশ্ব সংবাদ2/22/2026
Share:

Written By

News Desk

বন্ধ থাকা কার্যালয়ে ফিরছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা,বাড়ছে মিছিল-মিটিংয়ে তৎপরতা,তবে কি শীগ্রই রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে আওয়ামী'লীগ ?  

ঢাকা,বাংলাদেশ | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল 

নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ, তালা খোলা এবং পুনরায় সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরুর চেষ্টার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকাসহ একাধিক জেলা ও উপজেলায় কার্যালয়ে প্রবেশ বা প্রবেশের চেষ্টাকে ঘিরে কোথাও কোথাও পাল্টা দখল ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৪ সালের আগস্টে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে দলটি ও এর অঙ্গ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে দলটি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

তবে নির্বাচন শেষ হতেই তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা নতুন করে চোখে পড়ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তার দাবি, “দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া কর্মীদের রাজনৈতিক অধিকার। নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর, কার্যালয়ে যাওয়ার ওপর নয়।”

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বিভিন্ন মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যার যেখানে সম্ভব কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের এক কর্মী রিহান সরদার জানান, তারা নিজেদের উদ্যোগে ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাদের কার্যালয় খোলায় বাধা না দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও সে আশ্বাস বাস্তবায়ন না হয়ে উল্টো বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবন, তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা কার্যালয় এবং ধানমন্ডির সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ২০ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিতে সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার একটি প্রক্রিয়া হয়তো শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, “নিষেধাজ্ঞা মানেই স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ থাকা নয়। নির্বাচিত সরকারের অধীনে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দলীয় কার্যালয়ে তৎপরতা কি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস? নাকি এটি কেবল তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ?

                                            [x] কলামিস্ট -ফজলে রাব্বী রবনা