ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে অভিন্ন নীতিতে ঐকমত্যে পৌঁছাল - আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি
মিলান, ইতালি | ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াক্ষেত্রে লিঙ্গ-নীতি নিয়ে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের যোগ্যতা নির্ধারণে একটি অভিন্ন নীতির বিষয়ে বৈশ্বিক ক্রীড়া নেতারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছে আইওসি। নতুন এই নীতি চলতি বছরের প্রথমার্ধেই ঘোষণা করা হতে পারে।
আইওসি জানিয়েছে, নীতিটি কার্যকর হলে অলিম্পিক গেমস ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপসহ ডজনখানেক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এটিই হবে আইওসি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর গৃহীত প্রথম একক ও অভিন্ন মানদণ্ড। বর্তমানে বিভিন্ন ফেডারেশনের নিজস্ব নিয়ম থাকায় খেলাভেদে নীতিগত বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
যদিও নতুন নীতির বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—যেসব ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ চিকিৎসাগত পরিবর্তনের আগে সম্পূর্ণ পুরুষ বয়ঃসন্ধি অতিক্রম করেছেন, তাদের নারীদের বিভাগে অংশগ্রহণ কঠোরভাবে সীমিত করা হতে পারে।
আইওসির প্রথম নারী সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রির নেতৃত্বে গত জুন মাসে এই অভিন্ন নীতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিলান–কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিক গেমস চলাকালে এক সংবাদ সম্মেলনে আইওসি মুখপাত্র মার্ক অ্যাডামস বলেন,
“নারী বিভাগ সুরক্ষা করা কভেন্ট্রির অন্যতম প্রধান সংস্কার লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন,
“নীতিটি নিয়ে পরামর্শপর্ব শেষ হয়েছে এবং ‘পজ অ্যান্ড রিফ্লেক্ট’ ধাপও সম্পন্ন হয়েছে। ক্রীড়া জগতের মধ্যে এ বিষয়ে সাধারণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। আশা করছি, এ বছরের প্রথমার্ধেই নতুন নীতি ঘোষণা করা যাবে।”
গত সেপ্টেম্বরে কভেন্ট্রি ‘প্রোটেকশন অব দ্য ফিমেল ক্যাটাগরি’ শীর্ষক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেন। এতে বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এই গ্রুপের মূল লক্ষ্য ছিল ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের বিভাগকে কীভাবে ন্যায্য ও নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন।
এর আগে আইওসি দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিক গেমসে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো সর্বজনীন নীতি গ্রহণ থেকে বিরত ছিল। ২০২১ সালে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোকে নিজ নিজ নির্দেশিকা তৈরির দায়িত্ব দেয়। বর্তমানে সেই নিয়মই কার্যকর রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের অনুমোদন পেলেই ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদরা অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন।
এ পর্যন্ত খুব অল্পসংখ্যক প্রকাশ্যে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিউজিল্যান্ডের ভারোত্তোলক লরেল হাবার্ড, যিনি ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে জন্মের সময় নির্ধারিত লিঙ্গের বাইরে অন্য লিঙ্গ বিভাগে প্রতিযোগিতা করে ইতিহাস গড়েন।
বর্তমানে বিভিন্ন খেলায় ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কার্যকর রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিক্স ১২ বছর বয়সের আগেই লিঙ্গ পরিবর্তন সম্পন্ন করা ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের প্রতিযোগিতার অনুমতি দেয়। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড রাগবি এলিট পর্যায়ের সব প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে স্কুল, কলেজ ও পেশাদার পর্যায়ে নারীদের বিভাগে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে লস অ্যাঞ্জেলেস যখন ২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিষয়টি আরও রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিচ্ছে।
ফেব্রুয়ারিতে ‘কিপিং মেন আউট অব উইমেনস স্পোর্টস’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে তিনি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেবেন না।


