Breaking
এবার পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ হলেন সুপার স্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

এবার পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ হলেন সুপার স্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

Share:

Written By

News Desk

এবার পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দল থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে নিষিদ্ধ হলেন সুপার স্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

লিসবন, পর্তুগাল | ১১ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

পর্তুগালের ফুটবল সুপারস্টার ও জাতীয় দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রকাশিত ফেডারেশনের বিবৃতিতে জানানো হয়, রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলাটি শৃঙ্খলা তদন্ত কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রোনালদোর অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকবে।

কোচের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে ক্যাম্প ত্যাগ

ঘটনার সূত্রপাত নেশনস লিগে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। ওই ম্যাচে বিরতির পর মাঠে নামার জন্য প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত পুরো সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হয় ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে। পরবর্তী সময়ে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।

রোনালদোর বক্তব্য অনুযায়ী, কোচ হোর্হে জেসুস তাঁকে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে প্রায় ৩০ মিনিট খেলার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। এ ঘটনাকে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

তবে কোচ জেসুসের সঙ্গে রোনালদোর খেলার সময় নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় এলেও ঘটনাটির সব দিক নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য পুরোপুরি এক নয়। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। 

ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদো। সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের সঙ্গে না থাকার বিষয়েও তিনি ক্ষমা চান। একই সঙ্গে কোচের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তোলেন।

রোনালদো জানান, শাস্তি দেওয়া হলে তিনি তা মেনে নিতে প্রস্তুত। শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারলে শাস্তি শেষে জাতীয় দলের হয়ে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ের জন্য প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি রোনালদো। বরং শাস্তি শেষে পর্তুগালের হয়ে খেলার ইচ্ছা বজায় রেখেছেন।

কী শাস্তি হতে পারে?

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, যথাযথ অনুমতি বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া জাতীয় দলের ক্যাম্প কিংবা দলীয় কার্যক্রম ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।

তবে রোনালদোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত শাস্তি কতটা হবে, তা তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট বিধি প্রয়োগের ওপর নির্ভর করবে। তাই সম্ভাব্য শাস্তির মেয়াদকে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রোনালদোকে ছাড়াই নেশনস লিগে এগিয়েছে পর্তুগাল

রোনালদোকে ছাড়াই নেশনস লিগে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে পর্তুগাল। নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে জয়সহ দলটি টানা চার ম্যাচ জিতে পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে অন্য খেলোয়াড়দেরও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে আল দিরিয়াহর বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে তিনি গোল করেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। ওই গোলের মাধ্যমে তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যা ৯৮০-এ পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে অপেক্ষা

রোনালদো পর্তুগালের ইতিহাসের অন্যতম সফল ফুটবলার এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তাই শুধু ব্যক্তিগত শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নয়, দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে, তা নিশ্চিত নয়। রোনালদো জাতীয় দলে কবে ফিরবেন, সেটিও নির্ভর করছে শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী দল নির্বাচনের ওপর।

তথ্যসূত্র: Reuters, Associated Press (AP), The Guardian।