Breaking
চীন সম্মতি না দেওয়ায় ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত G20 অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর যৌথ চুক্তি

চীন সম্মতি না দেওয়ায় ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত G20 অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর যৌথ চুক্তি

Share:

Written By

News Desk

চীন সম্মতি না দেওয়ায় ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত G20 অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর যৌথ চুক্তি

— গ্লোবাল জার্নাল | ওয়াশিংটন | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের আপত্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত G20 অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত, রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা এবং সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে প্রস্তাবিত ভাষায় আপত্তি জানায় বেইজিং।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, G20-এর বাকি ১৯টি সদস্য দেশ প্রস্তাবিত বিতর্কিত ভাষার সমর্থন করেছিল। তবে চীন সম্মতি না দেওয়ায় বৈঠকের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র সদস্যদের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে একটি সভাপতির বিবৃতি (Chair’s Statement) প্রকাশ করে।

চীনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ১৯টি সদস্য দেশের সমর্থন চীনের রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের ব্যাপকতা তুলে ধরেছে।

চীনকে ইঙ্গিত করে বেসেন্ট বলেন, বাজারভিত্তিক নয় এমন অর্থনীতি থেকে সস্তা পণ্যের “অবিরাম প্রবাহ” দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তার মতে, অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন দেখিয়ে দিয়েছে যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই বিষয়টির প্রভাব কতটা বড় হয়ে উঠেছে।

মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, চীন প্রস্তাবিত যৌথ বিবৃতির চারটি অংশে আপত্তি জানিয়েছিল। এর মধ্যে একটি অংশে হরমুজ প্রণালি এবং চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গ ছিল। আরও দুটি অংশে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা, রপ্তানিনির্ভরতার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) আরও নজরদারির বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। চতুর্থ অংশে ছিল সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা।

রপ্তানি ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে মতবিরোধ

চীনের আপত্তি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন দেশটির বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান রপ্তানি নিয়ে বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। তাদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত উৎপাদন ও কম দামে পণ্য রপ্তানি অন্যান্য দেশের স্থানীয় শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

G20 বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বিভিন্ন দেশের বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধির মডেল কীভাবে সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে অর্থমন্ত্রীরা আলোচনা করেন।

রপ্তানিনির্ভর অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে সমালোচনামূলক ভাষা গ্রহণে চীনের অনীহা দেখিয়েছে যে, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নীতিগত অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো যথেষ্ট গভীর।

যৌথ বিবৃতি ছাড়াই G20 বৈঠক

চীন সম্মতি না দেওয়ায় G20 অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে কোনো সর্বসম্মত যৌথ কমিউনিকেশন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে জোটটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভাজনও আরও স্পষ্ট হয়েছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ভূরাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে G20-এর একাধিক অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এবারও অর্থনৈতিক ইস্যুর সঙ্গে ভূরাজনৈতিক মতবিরোধ যুক্ত হয়ে ঐকমত্যের পথ কঠিন করে তুলেছে।

যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি অবস্থান এড়িয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত সভাপতির বিবৃতিতে রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যের নির্দিষ্ট কোনো সংঘাতের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। এর পরিবর্তে সেখানে সাধারণভাবে “চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত” শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, সভাপতির বিবৃতিতে চীন ছাড়া অন্য সব G20 সদস্যের সমর্থিত বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।

G20-এ অর্থনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট

চীনের আপত্তির ফলে G20-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিভাজন আরও দৃশ্যমান হয়েছে। একদিকে অধিকাংশ সদস্য দেশ চীনের রপ্তানি, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ও অতিরিক্ত উৎপাদনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে; অন্যদিকে বেইজিং এমন কোনো ভাষা অনুমোদন করতে অনিচ্ছুক, যা তার অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর এই মতপার্থক্য ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতিতে G20-এর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

— গ্লোবাল জার্নাল | ওয়াশিংটন | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সূত্র: মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন