Breaking
ইরান যদি দ্রুত ফলপ্রসূ আলোচনা করতে ব্যর্থ হয় তবে ইরান বলতে কোন দেশ আর থাকবে না -হুশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান যদি দ্রুত ফলপ্রসূ আলোচনা করতে ব্যর্থ হয় তবে ইরান বলতে কোন দেশ আর থাকবে না -হুশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ3/30/2026
Share:

Written By

News Desk

ইরান যদি দ্রুত ফলপ্রসূ আলোচনা করতে ব্যর্থ হয় তবে ইরান বলতে কোন দেশ আর থাকবে না -হুশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন | ৩০ মার্চ, ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইরানের সাথে চলমান সংঘাত নিরসনে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান বন্ধে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলোচনা যদি দ্রুত সফল না হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বজ্রকণ্ঠ

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি বিস্ফোরক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন:

"যদি কোনো কারণে খুব শীঘ্রই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় এবং যদি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে 'ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত' না করা হয়, তবে আমরা ইরানের সকল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে এবং সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে সেখানে আমাদের চমৎকার 'অবস্থান' শেষ করব।"

প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন যে, এই তালিকায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পানি বিশুদ্ধকরণ (Desalination) প্ল্যান্টগুলোও থাকতে পারে।

কূটনৈতিক তৎপরতা ও মধ্যস্থতা

এত কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরানের একটি "নতুন এবং আরও যৌক্তিক" শাসনের সাথে বর্তমানে "গুরুতর আলোচনা" চলছে। তবে তেহরান সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো আঞ্চলিক দেশগুলো বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইসলামাবাদ এই ঐতিহাসিক আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা নজিরবিহীন বিমান হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় ১,৩৪০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

বিশ্ব রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সর্বশেষ হুমকি মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার একটি কৌশল বা ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ পলিসি। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়।