এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু'কে ইঙ্গিত করে কাপুরষ বললেন আইসলেন্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাটরিন
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইসরায়েলের সমালোচকদের ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর ক্যাটরিন গুনারসদোত্তির। তিনি বলেন, ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তির জন্য আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানো, মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনকে বারবার অসম্মান করাই নৈতিক কাপুরুষতার পরিচয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (ইউএনজিএ) দেওয়া বক্তব্যে গুনারসদোত্তির বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগ যেন বিশ্বের কাছে ‘পটভূমির শব্দে’ পরিণত না হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় এখনো শিশুরা নিহত হচ্ছে, পরিবারগুলো ঘরবাড়ি হারাচ্ছে এবং মা-বাবারা বারবার নিজেদের সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ কারা—আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
নেতানিয়াহুর ব্যবহৃত ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ শব্দবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে গুনারসদোত্তির বলেন, “এই মঞ্চ থেকে আমরা ‘নৈতিকভাবে কাপুরুষ’ কথাটি শুনেছি। আমার কাছে নৈতিকভাবে কাপুরুষ তারাই, বিশ্বের সেই নেতারা, যারা ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান।”
তিনি আরও বলেন, “যারা চরম দুর্দশায় থাকা মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেন, তারাও নৈতিকভাবে কাপুরুষ। আর যারা বারবার আন্তর্জাতিক আইনকে অসম্মান করেন, তারাও নৈতিকভাবে কাপুরুষ।”
গাজার দুর্ভোগ যেন উপেক্ষিত না হয়
বক্তব্যে গাজার মানবিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগকে স্বাভাবিক বা উপেক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিশুদের মৃত্যু, পরিবারগুলোর বাস্তুচ্যুতি এবং সন্তানদের নিরাপদে রাখার জন্য অভিভাবকদের অব্যাহত সংগ্রামের বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।
‘ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ’ নয়, প্রয়োজন মূল সমস্যার সমাধান
গুনারসদোত্তির বলেন, গাজার মূল সমস্যার সমাধান না করে অঞ্চলটিকে বারবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণের পরিস্থিতি বিশ্ব মেনে নিতে পারে না। তাঁর বক্তব্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতিসংঘে তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজার বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা





