ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে পাঞ্জাব প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।
কাসুর, পাঞ্জাব, পাকিস্তান | ৩ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ভারত-পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাকিস্তানি সূত্রের দাবি, কাসুর জেলার লাধার গ্রামের তিন বাসিন্দা সীমান্তের একটি পিলারের কয়েক ধাপ সামনে এগিয়ে গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজনই নিরস্ত্র ছিলেন এবং তাদের কেউ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করেননি। নিহত দুজনকে আজমত রাসুল ও মোহসিন জুট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি) ও অন্যান্য পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালানো হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিদ্যমান সমঝোতা ও প্রচলিত মানসম্মত কার্যপদ্ধতির (SOP) লঙ্ঘন।
তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন বর্ণনা এসেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত সরকারি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন এর মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর একটি অভিযানে লস্কর-ই-তাইবার এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমদ শরীফ চৌধুরী দাবি করেন, ভারত ভুল ব্যক্তিকে নিহত জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত করেছে এবং এ দাবির প্রতিবাদে মোহাম্মদ আসিফ নামের এক ব্যক্তিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, নিরাপত্তা বাহিনী আসিফ ফৌজি নামে এক জঙ্গি নেতাকে হত্যা করেছে।
ভারত ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে, যার মধ্যে দুটি যুদ্ধের কেন্দ্র ছিল কাশ্মীর। বিতর্কিত এই অঞ্চল বর্তমানে দুই দেশের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত, যদিও উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছিল।
সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ডটি দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির দায় ও পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বর্ণনা ভিন্ন হওয়ায়, পূর্ণাঙ্গ সরকারি তদন্ত ও উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।





