সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে ভারত—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
নয়াদিল্লি, ভারত | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ম বার্ষিকীর আগে তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের মাধ্যমে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছিল।
২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর
মোদি বলেন, ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক পরিচালনা করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) অতিক্রম করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই অভিযান বিশ্বকে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির একটি নতুন দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী হামলার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেছিল।
২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের উরি এলাকায় একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই অভিযান পরিচালিত হয়। ভারত তখন জানিয়েছিল, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে সন্ত্রাসীদের লঞ্চ প্যাড লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নিয়ে মোদির বক্তব্য
‘মন কি বাত’-এর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অতীতের একাধিক সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা এবং ২০০৮ সালের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করেন।
মোদি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও সেসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স পলিসি’ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলাফলও দেখা যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত শক্তিশালী ও দৃঢ় জবাব দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া বার্তা রাজনাথ সিংয়ের
এদিকে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত NDTV Defence Summit-এ তিনি বলেন, ভারত শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং যুদ্ধ চায় না; তবে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
রাজনাথ সিং বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উৎসাহিত করতে থাকলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলার জন্য ভারত প্রস্তুত থাকবে। তিনি একই সঙ্গে বলেন, ভারত অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে বা কাউকে হুমকি দিতে চায় না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্যে আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে ভারতের অবস্থান
মোদি ও রাজনাথ সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সময়ে ভারত সরকার প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিচ্ছে।
২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির বিবর্তন এবং বর্তমান ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।





