প্রথমবারের মতো সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে ইরানি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করছেন -ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ী
তেহরান, ইরান | ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ী। তাঁর এই দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, “৪৮ ঘণ্টা আগে প্রথমবারের মতো আমরা একটি আমেরিকান জাহাজের বিরুদ্ধে একটি ইরানি ডেস্ট্রয়ার-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাই।” তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন জাহাজটি সরে যায়।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সরাসরি কোনো মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি সত্যিই কোনো মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল কি না, কিংবা এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না—তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর মধ্যেই মার্কিন সেন্টকম গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সেন্টকমের পোস্টে বলা হয়, “বিপ্লবী গার্ডদের জন্য বার্তা স্পষ্ট: যদি আপনারা আমাদের দুটি জাহাজে গুলি চালান, তাহলে আমরা আপনাদের ওপর আরও অনেক বেশি অর্থনৈতিক মূল্য চাপিয়ে দেব এবং আপনাদের তিনটি জাহাজ ধ্বংস করব।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো দ্বিধা করবে না। প্রয়োজন হলে ইরানের সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ তেলবাহী জাহাজের বহর ধ্বংস করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রেজায়ী ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ ছাড়া পরিচালিত জাহাজগুলোকে দেশটির নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
এ ধরনের জাহাজগুলো পরবর্তী সময়ে বীমা-সংক্রান্ত জটিলতা, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রেজায়ীর বক্তব্য এবং সেন্টকমের পাল্টা হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট যে, সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থান এখন আরও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে কেন্দ্র করে যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং মার্কিন পক্ষও ঘটনাটির বিষয়ে সরাসরি নিশ্চিতকরণ দেয়নি।
---দ্য গ্লোবাল জার্নাল





