ইরানের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কারোরই অবকাঠামো নিরাপদ থাকবে না।যুক্তরাষ্ট্র কে সতর্ক বার্তায় -ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ
তেহরান, ইরান | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, যে অঞ্চলে ইরানকে তেল বিক্রি করতে বাধা দেওয়া হবে, সেখানে অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না।
মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে মেহের নিউজ এজেন্সি (এমএনএ)। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাব হবে কঠোর, দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট।

তেল বিক্রি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা
গালিবাফ বলেন, “এমন একটি অঞ্চলে, যেখানে আমরা তেল বিক্রি করতে পারব না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না। আর আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, একটি সভ্য জাতিকে ভয় দেখানো কিংবা ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান হুমকি, বক্তব্য কিংবা আকাশপথ ও বাণিজ্যিক অবরোধের মুখে পিছু হটবে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন দাবির সমালোচনা
বক্তব্যে গালিবাফ হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া দ্রুত ও কঠোর হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
হিজবুল্লাহ ও হাসান নাসরুল্লাহর স্মরণ
পার্লামেন্ট অধিবেশনে গালিবাফ ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরান–ইরাক যুদ্ধ, যেটিকে ইরানে ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়, সেই যুদ্ধে নিহতদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি ১২ ও ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা রক্ষায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
লেবাননের হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষেও তিনি তাঁকে স্মরণ করেন। গালিবাফের ভাষ্য, নাসরুল্লাহ হিজবুল্লাহকে একটি গেরিলা গোষ্ঠী থেকে এমন এক প্রতিরোধশক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধ আন্দোলন কোনো একক নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এর একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘটনাপ্রবাহে সেই কাঠামোর ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান হয়েছে।
আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার
গালিবাফের বক্তব্যে ইরানের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোকে একই নিরাপত্তা-সমীকরণের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা দুঃসাহসিক পদক্ষেপের জবাব হবে “কঠোর, দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট”।
তাঁর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালি এবং জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।





