Breaking
‘তোমাদের হাঁটু গেড়ে বসতে হবে’ ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংস করতে এসে লজ্জা নিয়ে ফিরে গেছ’ —মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কড়া বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ

‘তোমাদের হাঁটু গেড়ে বসতে হবে’ ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংস করতে এসে লজ্জা নিয়ে ফিরে গেছ’ —মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কড়া বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ

Share:

Written By

News Desk

‘তোমাদের হাঁটু গেড়ে বসতে হবে’ ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংস করতে এসে লজ্জা নিয়ে ফিরে গেছ’ —মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কড়া বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ

তেহরান, ইরান | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইরানের প্রাচীন সভ্যতাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা বিদেশি শক্তিগুলো শেষ পর্যন্ত পরাজয় ও অপমানের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পশ্চিমা সভ্যতা ও আধিপত্য নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে ওয়াশিংটনকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি। গালিবাফের বক্তব্যে ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইতিহাসজুড়ে ইরান এমন শক্তির মুখোমুখি হয়েছে, যারা নিজেদের বিশ্বজগতের অধিপতি মনে করত এবং প্রাচীন সভ্যতাগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ধুলো ও লজ্জা নিয়ে ফিরে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গালিবাফ আরও লেখেন, যারা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের উত্তরাধিকার অনুসরণ করতে চায়, তাদের পরিণতিও রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের মতো হতে পারে। বক্তব্যের শেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তোমাদের হাঁটু গেড়ে বসতে হবে।”

রুবিওর গ্রিসের বক্তব্যের জবাবে গালিবাফের মন্তব্য

গত ৭ অক্টোবর গ্রিসের এথেন্সে প্রাচীন পনিক্স এলাকায় দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পশ্চিমা সভ্যতার ঐতিহাসিক শিকড়, প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য এবং পশ্চিমা বিশ্বের পুনর্জাগরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি বলেন, ইউরোপ তার দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে উঠে হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে জ্বলে ওঠা আগুন আবার প্রজ্বালিত করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর জাতীয় স্বার্থ, সামরিক সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন

রুবিওর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গালিবাফের মন্তব্যকে ইরানের সভ্যতাগত ইতিহাস ও জাতীয় মর্যাদার ওপর জোর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাজনৈতিক পাল্টা বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে গালিবাফ তাঁর পোস্টে রুবিওর বক্তব্যের কোন নির্দিষ্ট অংশের জবাব দিচ্ছেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।

রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গালিবাফের বক্তব্যে রোমান সম্রাট ভ্যালেরিয়ানের প্রসঙ্গ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২৬০ খ্রিষ্টাব্দে এডেসার যুদ্ধে সাসানীয় পারস্যের রাজা প্রথম শাপুরের কাছে বন্দি হন ভ্যালেরিয়ান। তিনি যুদ্ধের সময় বন্দি হওয়া রোমান সম্রাট হিসেবে ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে পারস্য সাম্রাজ্য জয় করেছিলেন। এই দুই ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের উল্লেখ করে গালিবাফ মূলত অতীতের সাম্রাজ্যবাদী অভিযান ও পরিণতির সঙ্গে বর্তমান পশ্চিমা শক্তির নীতির তুলনা টেনেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক সংঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ইরানের নেতৃত্ব প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক হুমকিকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির অবস্থানকে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের আলোকে ব্যাখ্যা করে।

এই পরিস্থিতিতে গালিবাফের বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের আরেকটি প্রকাশ। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান কী ধরনের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি; মার্কো রুবিওর ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর এথেন্সে দেওয়া বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন।