Breaking
উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় ইরান

উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় ইরান

বিশ্ব সংবাদ2/2/2026
Share:

Written By

News Desk

উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির আশায় ইরান

তেহরান | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | The Global Journal

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে পারমাণবিক আলোচনায় ফেরার পথে অগ্রগতির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর দেওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে বলে মনে করছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন,

 “বার্তা বিনিময়ের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলো সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ আমরা পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করছি।”

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

এদিকে ফার্স সংবাদ সংস্থা একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে পারে, যদিও নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সম্ভাব্য বৈঠকের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক নিশ্চিত করেনি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পৌঁছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে চলছে, যখন ভারত মহাসাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকায় ইরান সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সে সময় হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সামরিক চাপের পরিবর্তে পারমাণবিক চুক্তির ওপর জোর দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

রয়টার্সকে ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় ফিরতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে। অতীতে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয়তা দেখালেও এসব বিষয়কে তারা আলোচনার বাইরে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের তীব্র প্রয়োজন থাকায় ইরান এবার তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারে কি না—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর প্রতিবাদে ইরান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনার কথা জানিয়েছে।