Breaking
“ইরানের ওপর আসন্ন কোনো হুমকি দেখা দিলে আগাম সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী”— সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

“ইরানের ওপর আসন্ন কোনো হুমকি দেখা দিলে আগাম সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী”— সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

Share:

Written By

News Desk

“ইরানের ওপর আসন্ন কোনো হুমকি দেখা দিলে আগাম সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুত তেহরানের সশস্ত্র বাহিনী”— সেনাবাহিনীর মুখপাত্র

তেহরান, ইরান | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

ইরানের ওপর কোনো আসন্ন হুমকি দেখা দিলে আগাম সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া। একই সঙ্গে তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর ইরান তার সামরিক মতবাদকে ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আরও আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক তৎপরতা এবং সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে আল-আলামের এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে এসব মন্তব্য করেন আকরামিনিয়া।

তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী এখনো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরু হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন ও শক্তিশালী করার কাজ করেছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সময়ে ইরান টার্গেট ব্যাংক হালনাগাদ, সামরিক সরঞ্জাম উন্নত, নতুন অস্ত্র ও সরঞ্জাম যুদ্ধ কাঠামোয় যুক্ত করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা কাজে লাগিয়েছে।

মার্কিন ঘাঁটি নিয়ে ইরানের দাবি

আকরামিনিয়া দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান বর্তমানে আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আকাশ ও স্যাটেলাইট চিত্র এবং মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে ইরান মনে করছে, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন বাহিনীর লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে এখন পূর্ব এশিয়া ও ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি থেকে সরবরাহ আনার মতো বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি, সরবরাহ সংকট এবং এসব দাবির ব্যাপারে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সেনাদের মনোবল নিয়েও দাবি

মার্কিন বাহিনীর মনোবল প্রসঙ্গে আকরামিনিয়া দাবি করেন, কিছু মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেছে এবং মার্কিন বাহিনী মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে।

তবে এ দাবিগুলোও ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং স্বতন্ত্র সূত্রে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

আকরামিনিয়া বলেন, ইরানের সামগ্রিক মূল্যায়নে বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল নয়। তার দাবি, পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের হাতে এ মুহূর্তে কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।

প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে পরিবর্তনের দাবি

ইরানের সামরিক কৌশল প্রসঙ্গে আকরামিনিয়া বলেন, জাতিসংঘ সনদ বৈধ আত্মরক্ষা ছাড়া শক্তি প্রয়োগের অনুমতি দেয় না। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার সামরিক কৌশলে আগাম প্রতিরোধমূলক অভিযানকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ আবদোলরহিম মুসাভি ইরানের সামরিক মতবাদকে প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করেছিলেন।

আকরামিনিয়ার দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত ইরানবিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালিয়ে এই কৌশলের বাস্তব প্রয়োগ করেছে।

পশ্চিম সীমান্তে হামলার আশঙ্কা

ইরানের সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার ভিত্তিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। তার দাবি, উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার পাশাপাশি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্থলসীমান্তেও হামলা চালানো।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী হামলা চালানোর আগেই তাদের অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছিল। তিনি এটিকে “এক ধরনের আগাম যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

আকরামিনিয়া দাবি করেন, ওই পদক্ষেপের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলো ইরানের স্থলসীমান্তে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।

ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা ঘিরে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি (MNA)