চীনের সঙ্গে ‘স্থিতিশীল’ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী -সানায়ে তাকাইচি
টোকিও, জাপান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চীনের সঙ্গে ‘স্থিতিশীল’ সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার পার্লামেন্টে দেওয়া তার প্রথম নীতিগত ভাষণে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় “শান্ত ও উপযুক্ত” কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার কথা জানান।
চীনকে “প্রতিবেশী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ” উল্লেখ করে ৬৪ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, তার সরকার যোগাযোগের পথ খোলা রাখবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে। সরকারি বিবৃতিতেও একই বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক পুনর্নির্বাচনের পর জাপানের ১০৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম নীতিগত ভাষণ। ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে তার দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিপুল বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করে।
ভাষণে তাকাইচি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত অবসানের আহ্বান জানান এবং বলেন, সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে টোকিও কিয়েভকে সমর্থন দিয়ে যাবে। একই সঙ্গে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ককে “কঠিন পরিস্থিতির” মুখে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তি ও শান্তিচুক্তি সম্পাদনের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘প্রোঅ্যাকটিভ ফিসকাল পলিসি’ জোরদার
কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত তাকাইচি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে “দায়িত্বশীল ও প্রোঅ্যাকটিভ” রাজস্ব নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তার মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কৃচ্ছ্রতা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে ঘাটতির প্রবণতার অবসান ঘটাতে কাজ করবে।
খাদ্য ও পানীয় পণ্যে ভোগকর কমানোসহ জনগণের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রসঙ্গে তাকাইচি বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশের প্রেক্ষাপটে চলতি বছর জাপানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নথি সংশোধন করা হবে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিত্যাগকারী সংবিধান সংশোধন নিয়ে গভীরতর জনআলোচনার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান জোট জাপানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ভিত্তি। আগামী মাসেই যুক্তরাষ্ট্র সফরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চান এবং নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবেন।
প্রায় ৪৯ মিনিটের এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কৌশলগত কূটনীতি ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।





