Breaking
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এই দুই দেশ সবসময় একসঙ্গে আসার পথ খুঁজে পেয়েছে,কংগ্রেস ভাষণে -ব্রিটিশ রাজা চার্লস

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এই দুই দেশ সবসময় একসঙ্গে আসার পথ খুঁজে পেয়েছে,কংগ্রেস ভাষণে -ব্রিটিশ রাজা চার্লস

লিড নিউজ4/28/2026
Share:

Written By

News Desk

যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এই দুই দেশ সবসময় একসঙ্গে আসার পথ খুঁজে পেয়েছে,কংগ্রেস ভাষণে -ব্রিটিশ রাজা চার্লস 

📍 ওয়াশিংটন ডিসি, যুক্তরাষ্ট্র | The Global Journal | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ 

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজা চার্লস। মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দেওয়া তার বহুল প্রত্যাশিত বক্তব্যে তিনি বলবেন, দুই দেশ “বারবার একসঙ্গে আসার পথ খুঁজে পেয়েছে” এবং ভবিষ্যতেও সেই ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে হবে।

রাজা চার্লস তার ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে “পুনর্মিলন ও নবায়ন”-এর আহ্বান জানাবেন বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন রাজধানীতে একটি বন্দুক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। রাজা চার্লস তার ভাষণে ওই ঘটনার প্রতি সমবেদনা জানাবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এই সফরে রানী ক্যামিলাও রাজা চার্লসের সঙ্গে রয়েছেন। এটি ২০০৭ সালের পর যুক্তরাজ্যের কোনো রাজপরিবারের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

রাজা তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করবেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ—সহনশীলতা, স্বাধীনতা ও সমতা—রক্ষায় দুই দেশের ঐক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। তিনি ন্যাটো ও ইউক্রেনকে সমর্থনের বিষয়ও তুলে ধরবেন।

সফরের শুরু হয় মেরিল্যান্ডের অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণের মাধ্যমে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। এরপর হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাজা ও রানী।

হোয়াইট হাউসে তারা চা পান করেন এবং বাগানে নতুনভাবে স্থাপিত মৌচাক পরিদর্শন করেন—যা রাজা চার্লসের মৌচাষের প্রতি ব্যক্তিগত আগ্রহের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই রাষ্ট্রীয় সফরকে যুক্তরাজ্য সরকারের “সফট পাওয়ার” কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্য বহন করছে।

পরে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ দূতাবাসে আয়োজিত গার্ডেন পার্টিতে ৬০০-এর বেশি অতিথি অংশ নেন, যেখানে রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, সামরিক ও দাতব্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যুক্তরাজ্যের শুল্কমুক্ত গরুর মাংস দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ পরিবেশন, যা সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ফলাফল।

রাজা চার্লস মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ব্রিটিশ রাজা হিসেবে ভাষণ দেবেন। সর্বশেষ এই ভাষণ দিয়েছিলেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯৯১ সালে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যদিও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও বিদ্যমান।

রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ভাষণ দেবেন, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন।

🌍 The Global Journal