Breaking
ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়ুস বর্গ হয়বি

ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়ুস বর্গ হয়বি

বিনোদন2/3/2026
Share:

Written By

News Desk

ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়ুস বর্গ হয়বি 

অসলো, নরওয়ে | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়ুস বর্গ হয়বি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার অসলো ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক গুরুতর অভিযোগের বিচার শুরু হয়েছে, যা নরওয়ের রাজপরিবারকে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে ফেলেছে।

২৯ বছর বয়সী মারিয়ুস বর্গ হয়বি আদালতে চারটি ধর্ষণের অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কমপক্ষে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তিনি ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের পুত্র এবং নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎপুত্র হলেও তার কোনো আনুষ্ঠানিক রাজকীয় উপাধি বা দায়িত্ব নেই।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হয়বির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাবেক এক সঙ্গীর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হুমকি, আরেক সঙ্গীর বিরুদ্ধে দুটি সহিংসতার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা আদেশ ভঙ্গ এবং মাদক রাখার অভিযোগ। বিচার প্রক্রিয়ার কিছু অংশ গোপনে, বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত হবে বলে আদালত জানিয়েছে।

২০২৪ সালে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত আগস্টে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি জামিনে মুক্ত ছিলেন। তবে রোববার নতুন করে হামলা, ছুরি দিয়ে হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞা আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে তাকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

হয়বির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ জানান, সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারটি আরেক ব্যক্তির সঙ্গে সংঘটিত একটি কথিত “ঘটনা”র পর হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি আগেই বলেছেন, তার মক্কেল যৌন নির্যাতনের সব অভিযোগ এবং সহিংসতা সম্পর্কিত অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই বিচার এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটকে ঘিরে নরওয়ের রাজপরিবার তীব্র সমালোচনার মুখে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশ করে, যেখানে মেটে-মারিটের নাম বহুবার উল্লেখ রয়েছে।

এক বিবৃতিতে মেটে-মারিট বলেন, এপস্টেইনের পটভূমি যথাযথভাবে যাচাই না করার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেন এবং তাদের মধ্যকার যোগাযোগকে তিনি “স্রেফ বিব্রতকর” বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, একই দিনে নরওয়ের পার্লামেন্ট বিপুল ভোটে দেশটির রাজতন্ত্র ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে রায় দেয় এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক ও অস্থিরতার মধ্যেও প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

— দ্য গ্লোবাল জার্নাল