প্রো-ফিলিস্তিনি মত প্রকাশের জেরে বহিষ্কার নয়: রুমেইসা ওজতুর্কের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের রায়
বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রে প্রো-ফিলিস্তিনি মত প্রকাশের জেরে তুর্কি নাগরিক ও টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ককে বহিষ্কারের উদ্যোগে বড় ধাক্কা খেল ট্রাম্প প্রশাসন। এক ইমিগ্রেশন বিচারক রায় দিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) ওজতুর্ককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারযোগ্য প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে চলমান বহিষ্কার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে দাখিল করা এক চিঠিতে ওজতুর্কের আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা জানান, গত ২৯ জানুয়ারি বোস্টনের ইমিগ্রেশন বিচারক রূপাল প্যাটেল এই রায় দেন।
শিশুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণারত রুমেইসা ওজতুর্ককে গত বছরের মার্চে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রো-ফিলিস্তিনি কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্টদের লক্ষ্য করে কঠোর অভিযান শুরু করে। গ্রেপ্তারের সময়ের ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি চিহ্নবিহীন গাড়িতে তুলে নেয়—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
কর্তৃপক্ষ তার ভিসা বাতিলের একমাত্র কারণ হিসেবে উল্লেখ করে—টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পত্রিকায় এক বছর আগে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধ’-এর প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছিল।
ওজতুর্কের মুক্তির আবেদন প্রথমে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে দাখিল করা হয়, পরে তা ভারমন্টের বার্লিংটনে স্থানান্তরিত হয়। গত বছরের মে মাসে এক ফেডারেল বিচারক তাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেন। বিচারকের মতে, ওজতুর্ক যথেষ্ট যুক্তি দেখাতে পেরেছেন যে তার আটকাদেশটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বেআইনি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ।
লুইজিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলের একটি আটক কেন্দ্রে ৪৫ দিন কাটানোর পর ওজতুর্ক আবার টাফটস ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। যদিও ফেডারেল সরকার তার মুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করে, তবে ২৯ জানুয়ারির ইমিগ্রেশন আদালতের সিদ্ধান্ত আপাতত সেই আইনি লড়াইয়ের ইতি টানে।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ওজতুর্ক বলেন, “আজ আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি। বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা থাকলেও, আমার মামলাটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বারা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশার আলো হতে পারে।”
তার ইমিগ্রেশন আইনজীবী মাহসা খানবাবাই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। “ফিলিস্তিনি মানবাধিকার ও গাজায় চলমান মানবিক সংকটের পক্ষে কথা বলা মানুষদের কণ্ঠ রোধ করতে ইমিগ্রেশন আইনকে অপব্যবহার করা হয়েছে,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্য বিচারকরাও নির্বিচারে বহিষ্কার কর্মসূচিতে সিলমোহর দিতে অস্বীকৃতি জানাবেন।
অন্যদিকে, ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বিচারক প্যাটেলের সিদ্ধান্তকে ‘বিচারিক সক্রিয়তা’ বলে আখ্যা দেয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, “যারা মনে করে প্রথম সংশোধনীর আড়ালে থেকে আমেরিকাবিরোধী ও ইহুদিবিদ্বেষী সহিংসতা বা সন্ত্রাসবাদে সমর্থন জানানো যাবে—তারা আবার ভাবুক।”
এদিকে আলাদাভাবে, গত মাসে বোস্টনের এক ফেডারেল বিচারক রায় দেন যে ক্রিস্টি নোয়েম ও পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও অ-নাগরিক শিক্ষাবিদদের আটক ও বহিষ্কারের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার একটি বেআইনি নীতি গ্রহণ করেছেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার উদ্যোগ নেয়।
রুমেইসা ওজতুর্কের মামলা এখন যুক্তরাষ্ট্রে একাডেমিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





