Breaking
যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিলিস্তিনে জাতীয় সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ২০২৭সালের ১১সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন -প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিলিস্তিনে জাতীয় সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ২০২৭সালের ১১সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন -প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

Share:

Written By

News Desk

যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফিলিস্তিনে জাতীয় সংসদ এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী ২০২৭সালের ১১সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেন -প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

 

রামাল্লাহ, ফিলিস্তিন | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | দ্য গ্লোবাল জার্নাল

যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফিলিস্তিনে জাতীয় সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে আগামী ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর একই দিনে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। প্রায় দুই দশক পর সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভোটের জন্য ফিলিস্তিনিদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এক ডিক্রির মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছেন। আগে ফিলিস্তিনের আইনসভা পরিষদের নির্বাচন চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের কথা ছিল ২০২৭ সালের শুরুর দিকে। নতুন সিদ্ধান্তে দুই নির্বাচনই ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অধিকৃত অঞ্চলগুলোর পরিস্থিতিকে নির্বাচনের অনুকূল নয় বলছে পিএলও

নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে শনিবার সকালে ফিলিস্তিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি কমিটি বৈঠক করে। পরে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটি জানায়, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অনুকূলে নয়।

ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় নির্বাচনী সরঞ্জাম এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াকে নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও নির্বাচনী পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

রাজস্ব আটকে রাখা ও চলাচলে বিধিনিষেধের অভিযোগ

নির্বাচন পেছানোর কারণ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের কর রাজস্ব আটকে রাখা এবং প্রার্থী ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা এগিয়ে না যাওয়ার বিষয়টিও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

তবে এসব বিষয়ে ইসরায়েলের বক্তব্য প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নির্বাচন আয়োজনের পথে উল্লিখিত বাধাগুলো সম্পর্কে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবে বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

নির্বাচন পেছানোয় রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন আবারও পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগও এর ফলে পিছিয়ে গেল।

ফিলিস্তিনের সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। ওই নির্বাচনে ফাতাহকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিল হামাস। এরপর থেকে নতুন সংসদ নির্বাচন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০০৫ সালের পর আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়নি

ফিলিস্তিনে সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ওই নির্বাচনে মাহমুদ আব্বাস জয়ী হন। তাঁর মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এরপর থেকে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিক্রির মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করে আসছেন।

২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দীর্ঘ বিরতির পর ফিলিস্তিনে সংসদ ও প্রেসিডেন্ট—উভয় নির্বাচন একই দিনে আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। তবে অধিকৃত অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলাচলের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বাস্তবতা শেষ পর্যন্ত এই সময়সূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ওয়াফা।